যশোর, বাংলাদেশ || বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

হাতি ঘোড়া ময়ূরের সম্মিলন ঘটবে সুলতান কলেজের শোভাযাত্রায়

গোলাম মোস্তফা

, যশোর

প্রকাশ : শনিবার, ১১ এপ্রিল,২০২৬, ১০:০০ এ এম
হাতি ঘোড়া ময়ূরের সম্মিলন ঘটবে সুলতান কলেজের শোভাযাত্রায়

যশোরের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এখন নতুন বছরের আগমনী গান। বঙ্গাব্দ ১৪৩৩ বরণে দারুণ ব্যস্ত সময় পার করছেন সবাই। কেউ নতুন পানজাবি, কেউ নতুন শাড়ি আবার শিশুদের জন্যে নতুন বৈশাখী পোশাকের সংগ্রহ চলছে।

শোভাযাত্রায় নান্দনিক উপস্থিতির জন্যে সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে চলছে নানা মহড়া। চলছে নিরব প্রতিযোগিতা। কেউ নতুন নতুন অনুষঙ্গ নিয়ে শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সচেষ্ট। চলছে গান- নাটকের রিহার্সাল, সমানতালে।

বাংলা নববর্ষ উদযাপনে যশোরের ইতিহাস এবং ঐতিহ্য বিশ্বে স্বীকৃত। এখানে প্রতিবছর গ্রামীণ আবহে ফুটিয়ে তোলা হয় নিত্য নতুন সাজ। প্রায় হারিয়ে যাওয়া লোকজ পণ্যগুলো তুলে ধরা হয় শোভাযাত্রায়। এবারো তার ব্যতিক্রম নয়।

এসব কাজের শ্রেষ্ঠতার দাবিদার প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্যতম এস. এম সুলতান ফাইন আর্ট কলেজ। আর্ট কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থীরা বৈশাখী শোভাযাত্রা অনুষঙ্গ নির্মাণে ব্যস্ত সময় পার করছেন। আমন্ত্রণপত্র তৈরিতে শিল্পীরা এবার সরা পেইন্টিং করছেন।

শিক্ষার্থী তনশ্রী বিশ্বাস জানান, সরা পেইন্টিং করতে ভাল লাগছে। সম্পূর্ণ নতুন আইডিয়া। এটি গ্রামীণ বাংলা ঐতিহ্যবাহী লোকশিল্প। গ্রামীণ ঐতিহ্য বহন করে এমন অনেক কাজ আমরা করছি।

ড্রইং অ্যান্ড পেইন্টিং বিভাগের প্রভাষক গৌতম বিশ্বাসের নির্দেশনায় তৈরি হচ্ছে বিশালাকার হাতি এবং ঘোড়া। কাঠ, বাঁশ এবং কাপড় দিয়ে তৈরি এই কাঠামোগুলোকে রঙের ছোঁয়ায় প্রাণবন্ত করে তোলার কাজ চলছে। ১৪ ফুট উঁচু নান্দনিক হাতি ও ঘোড়ার অবয়ব দেখে যশোরবাসীর মধ্যে অন্যরকম বৈশাখীর আমেজ সৃষ্টি হবে বলে তিনি মনে করেন।

হাতি ও ঘোড়া সাধারণত শক্তি ও সাহসিকতার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়। অতীতে রাজা-জমিদারদের আমলে শোভাযাত্রার প্রধান অংশ ছিল হাতি ও ঘোড়া। সেই ঐতিহ্য ধরে রাখতেই আজও বিশেষ কোনো উৎসব বা বড় ধরনের মিছিলে আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে হাতি ও ঘোড়াকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

ড্রইং অ্যান্ড পেইন্টিং বিভাগের প্রভাষক এসএম তাইফুর রহমান জানান, এস এম সুলতান ফাইন আর্ট কলেজ এখন মহাব্যস্ত। শুক্রবার - শনিবার বন্ধের মধ্যে কাজ হচ্ছে। প্রতিবছরের মতো এবারও পহেলা বৈশাখের প্রথম সকালে শহরবাসীকে একটি রাজকীয় ও শৈল্পিক শোভাযাত্রা উপহার দিতে দিন-রাত এক করে কাজ করছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

কলেজের ছাপচিত্র বিভাগের প্রভাষক সৈকত চৌধুরী খোকনের নেতৃত্বে তৈরি হচ্ছে একটি সুবিশাল ময়ূর। ১৬ ফুট উঁচু এ ময়ূরের বাহারি পেখম আর রঙের বিন্যাস পথচারীদের মুগ্ধ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। লোকজ শিল্প এবং নান্দনিকতার এক চমৎকার প্রকাশ ময়ূর। আভিজাত্যের প্রতীক ময়ূর দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
কলেজের একটি কক্ষে একদল শিক্ষার্থী তৈরি করছে সুসজ্জিত পালকি। কলেজের বর্ষবরণ উদযাপনে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রভাষক সোমা কবিরাজ ও শান্তা দাশের নেতৃত্বে শিক্ষার্থীরা পালকিসহ নানা মুখোশ তৈরি করছে।

শিক্ষার্থী সীমান্ত হরি জানান, প্রতিবছরের মতো এবারও শোভাযাত্রায় নতুনত্ব আনার চেষ্টা করছি।

কলেজের লাইব্রেরি কক্ষে প্রভাষক জামিল আহমেদের নেতৃত্বে তৈরি করা হচ্ছে শৈল্পিক মুকুট। বৈশাখী পোশাকে সজ্জিত অংশগ্রহণকারীদের মাথায় এই মুকুটগুলো শোভাযাত্রায় নতুন মাত্রা যোগ করবে। এছাড়া হাতে বহনযোগ্য বাঘ, পেঁচা ও হরেক পদের পাখির ফেস্টুন তৈরির কাজও চলছে পুরোদমে।

কলেজের প্রভাষক আব্দুর রাজ্জাক জানান, গ্রামীণ ঐতিহ্য তুলে ধরে প্রতিবছর নিত্য নতুন অনুষঙ্গ নিয়ে এস. এম সুলতান ফাইন আর্ট কলেজ শোভাযাত্রায় অংশ নেয়। এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না।

শোভাযাত্রা সম্পর্কে কলেজের প্রভাষক গৌতম বিশ্বাস আরো জানান, নববর্ষের সকালে বাদ্যযন্ত্রের তালের সাথে নাচে-গানে মুখরিত হয়ে এই মিছিলটি যশোর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করবে। লোকজ সংস্কৃতির এই বর্ণাঢ্য প্রদর্শনী শুধু যশোর নয়, বরং পুরো দেশবাসীকে নতুন বছরের অনাবিল আনন্দ ও অনুপ্রেরণা যোগাবে।

কলেজের অধ্যক্ষ মো. শামীম ইকবাল জানান, এস.এম সুলতান ফাইন আর্ট কলেজের এরকম প্রস্তুতি কেবল একটি উৎসব পালন নয়, বরং অপশক্তির বিরুদ্ধে অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক শৈল্পিক লড়াই। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের এই কর্মযজ্ঞে ফুটে উঠছে হারানো ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনার নিরন্তর প্রচেষ্টা।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)