আসাদুজ্জামান সরদার
, সাতক্ষীরা
চলছে মধুমাস জ্যৈষ্ঠের আমেজ। আর মধুমাসের কথা উঠলেই সবার আগে নাম আসে সাতক্ষীরার সুস্বাদু গোবিন্দভোগ, হিমসাগর ও ল্যাংড়া আমের। তবে এদিন দূর-দূরান্তে আম পাঠাতে গিয়ে কুরিয়ার খরচের ধাক্কায় হিমশিম খেতে হতো সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের। অনেক সময় আমের দামের চেয়ে কুরিয়ার খরচ হয়ে যেতো দ্বিগুণ।
ব্যবসায়ীদের এই চিরায়ত ভোগান্তি দূর করতে এবার অবিশ্বাস্য সাশ্রয়ী মূল্যে আম পরিবহনের দারুণ উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ডাকবিভাগ। প্রযুক্তি-নির্ভর ‘স্পিড পোস্ট’ সার্ভিসের মাধ্যমে এখন পানির দামে সাতক্ষীরার আম পৌঁছে যাচ্ছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। ডাকবিভাগের এই ডিজিটাল ও আধুনিক সেবায় এখন উচ্ছ্বসিত সাতক্ষীরার আম চাষী ও সাধারণ মানুষ।
সাতক্ষীরা প্রধান ডাকঘর সূত্রে জানা গেছে, এই বিশেষ সার্ভিসে আম বুকিংয়ের ক্ষেত্রে- প্রথম কেজি মাত্র দশ টাকা। পরবর্তী প্রতি কেজি মাত্র পাঁচ টাকা।
বেসরকারি কুরিয়ার সার্ভিসগুলো যেখানে প্রতি কেজিতে ১৩ থেকে ১৫ টাকা বা তারও বেশি চার্জ নিচ্ছে, সেখানে ডাকবিভাগের এই রেট আমূল পরিবর্তন এনেছে। হিসাব অনুযায়ী, কোনো গ্রাহক ২০ কেজি আম পাঠালে তার মোট খরচ পড়ছে মাত্র ১১৬ টাকা (ভ্যাট-উৎস করসহ)। ফলে, আমের মূল্যের চেয়ে কুরিয়ার খরচ বেশি হওয়ার সমস্যা অনেকখানি দূর হলো। কম খরচের পাশাপাশি ডাকবিভাগের দ্রুততম ডেলিভারির বিষয়টি নজর কেড়েছে ব্যবসায়ীদের। সকালে বুকিং করলে ওইদিন সন্ধ্যার মধ্যেই খুলনায় আম পৌঁছে যাচ্ছে। বুকিং করার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকা শহরের গ্রাহক আম হাতে পাচ্ছেন।
ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশালসহ বিভিন্ন জায়গায় বুকিংয়ের একদিন পর বা তার পরবর্তী দিনের মধ্যে আম পৌঁছে যাচ্ছে।
ঢাকার যেসব এলাকায় মিলবে এই সেবা
ঢাকা শহরের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ জিপিও এবং সাব-পোস্ট অফিসের আওতায় এই আম ডেলিভারি দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে: গুলশান, বনানী, ভাটারা, খিলক্ষেত, উত্তরা, পল্লবী, মিরপুর, কারিগরি শিক্ষা বোর্ড সাব-পোস্ট অফিস, মোহাম্মদপুর, জিগাতলা, নিউ মার্কেট, তেজগাঁও, ঢাকা পলিটেকনিক, খিলগাঁও, বাসাবো, ওয়ারী, পোস্তা, গ্যান্ডারিয়া, ধোলাইপাড় (ধনিয়া), ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট, ঢাকা সদর সাব-পোস্ট অফিস এবং ঢাকা জিপিও।
সাতক্ষীরা পৌরসভার আলিয়া মাদ্রাসাপাড়ার আম ব্যবসায়ী ইয়াকুব আলী বলেন,
সাতক্ষীরার আম সারাদেশের মানুষের কাছে খুব প্রিয়। কিন্তু ক্যারেট আর কুরিয়ার খরচ বেশি হওয়ায় ঢাকার মানুষকে অনেক বেশি দাম দিয়ে কিনে খেতে হতো। বাংলাদেশ ডাকবিভাগের কম টাকায় ভালো সেবার কথা শুনে আজ প্রথম এসেছি। অন্যান্য কুরিয়ারের তুলনায় খরচ অনেক কম। আমাদের মতো ব্যবসায়ীদের জন্য এটা খুবই ভালো হয়েছে।
আরেক আম ব্যবসায়ী আব্দুল জলিল বলেন, বেশ কয়েকবার এই সার্ভিসে আম পাঠিয়েছি এবং খুব ভালো সেবা পেয়েছি। আজকে আম দিলে ঢাকায় আগামীকালই পেয়ে যাচ্ছে। ঢাকার বাইরে দিলে দুইদিন লাগছে। সব মিলিয়ে কম টাকায় এতো ভালো সেবা সত্যিই প্রশংসনীয়। ডিজিটাল বাংলাদেশের ছোঁয়ায় ডাকবিভাগের এই আধুনিক ও সাশ্রয়ী রূপান্তর একদিকে যেমন মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমাবে, অন্যদিকে চাষী ও ভোক্তাদের সরাসরি যুক্ত করে আমের বাজারে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করবে বলে মনে করছেন।
সাতক্ষীরা পোস্ট অফিসের হিসাবরক্ষক শ্যামকুমার পাল জানান, এই সাশ্রয়ী সার্ভিসের কারণে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অত্যন্ত ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। আম ঠিকঠাক ও দ্রুত সময়ে পৌঁছানোয় ডাকবিভাগের এই ডিজিটাল সার্ভিসের সুনাম এখন সবার মুখে মুখে।
সার্বিক বিষয়ে সাতক্ষীরা পোস্ট অফিসের পোস্টমাস্টার দেবাশীষ কর্মকার বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রিয়জনের কাছে আম পাঠানোর সবচেয়ে উপযুক্ত ও নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হচ্ছে আমাদের প্রযুক্তিনির্ভর স্পিড পোস্ট ডাক সার্ভিস। প্রথম কেজি ১০ টাকা এবং পরবর্তী প্রতি কেজি মাত্র ৫ টাকা হারে অত্যন্ত কম মূল্যে এই সেবা দেওয়া হচ্ছে।
চমৎকার এই সেবাটি বর্তমানে বাংলাদেশের যেকোনো জেলা সদর এবং জেলা সদরের কাছাকাছি থাকা উপজেলা ডাকঘরগুলো থেকে প্রদান করা হচ্ছে।