যশোর, বাংলাদেশ || শনিবার, ২৩ মে ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

বিজ্ঞপ্তির আগেই কর্মী নিয়োগ: হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে লাখ লাখ টাকা

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

প্রকাশ : শনিবার, ২৩ মে,২০২৬, ০১:০০ পিএম
বিজ্ঞপ্তির আগেই কর্মী নিয়োগ: হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে লাখ লাখ টাকা

বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগেই বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দুই শতাধিক ‘পরিবেশকর্মী’ নিয়োগ দিয়ে কাজ করানো এবং পরবর্তীতে নামমাত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে কোটি টাকার নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে ‘ড্যাফ বাংলাদেশ’ নামে একটি এনজিওর বিরুদ্ধে।

দীর্ঘদিন ধরে কাজ করলেও এসব কর্মীর অধিকাংশই কোনো বেতন পাননি। সরকারি অনুমোদন ছাড়াই প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে ব্যবহার করে চালানো এই বিশাল চক্রের নেপথ্যে স্থানীয় প্রভাবশালী ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের পরোক্ষ মদদ রয়েছে বলে অভিযোগ।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সম্প্রতি জাতীয় দৈনিক যায়যায়দিন এবং সাতক্ষীরা থেকে প্রকাশিত ‘দৈনিক দৃষ্টিপাত’ পত্রিকায় সাতক্ষীরা ও খুলনা জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘পরিবেশকর্মী’ নিয়োগের একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।

চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল প্রকাশিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনের শেষ সময় ছিল ১০ মে। মাসিক ১৪ হাজার টাকা বেতন এবং আবেদনপত্রের সঙ্গে ২০০ টাকার ব্যাংক ড্রাফট বা পে-অর্ডার জমা দেওয়ার কথা উল্লেখ থাকলেও মোট কতজনকে নিয়োগ দেওয়া হবে, তা বিজ্ঞপ্তিতে গোপন রাখা হয়।

স্থানীয় ভুক্তভোগীদের, এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ৭ থেকে ৮ মাস আগেই দুই শতাধিক শিক্ষিত বেকার যুব-যুবাকে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যোগদান করানো হয়। মূলত নিজেদের অবৈধ নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আইনি রূপ দিতেই পরবর্তীতে এই আইওয়াশ বা নামমাত্র নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সরকারি ও এনজিওর যৌথ প্রজেক্টের দোহায় দিয়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষিত বেকারদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী জানান, গত ৭-৮ মাস আগে স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালী এবং কিছু প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে নগদ ৩০ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। একইসঙ্গে শর্ত দেওয়া হয়, বেতন চালু হলে আরও এক লাখ টাকা দিতে হবে। এই চুক্তিতে তাদের কাগজপত্র নিয়ে বিদ্যালয়ে যোগদান করানো হয়। কিন্তু মাসের পর মাস পার হলেও কোনো কর্মীই বেতন পাননি।

বেতন না পেয়ে এবং সরকারি অনুমোদনের কোনো বৈধতা না দেখে ভুক্তভোগী যুবদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

সাতক্ষীরার আশাশুনির খাজরা পিরোজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক অরুণ কুমার মন্ডল বলেন, আমার বিদ্যালয়ে গত তিনমাস ধরে একজন পরিবেশকর্মী কাজ করছেন। কিন্তু তিনি এখনো কোনো বেতন পাননি। যোগদানের সময় তিনি শুধুমাত্র পরিবেশ অধিদপ্তরের একটি ছাড়পত্র দেখিয়েছিলেন। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অনুমোদনের কোনো কাগজ দেখাতে পারেননি।

নিয়োগ জালিয়াতির বিষয়ে জানতে চাইলে ড্যাফ বাংলাদেশ-এর সাতক্ষীরা রিজিওনাল অফিসার প্রীতিষ রায় পূর্বের নিয়োগের কথা স্বীকার করলেও দায় নিতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগে যেসব প্রতিষ্ঠানে পরিবেশকর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, সেগুলো অবৈধ। সেখানে যদি কোনো আর্থিক লেনদেন হয়ে থাকে, তার দায়ভার ড্যাফ বাংলাদেশ নেবে না। এ বিষয়ে আমি চেয়ারম্যান সাহেবের সাথে কথা বলবো।

রিজিওনাল অফিসারের এই বক্তব্যের পর নতুন করে আইনি ও নৈতিক প্রশ্ন উঠেছে- যদি আগের নিয়োগগুলো অবৈধই হয়ে থাকে, তবে ড্যাফ বাংলাদেশের লোগো ও পরিচয় ব্যবহার করে এতোদিন ধরে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মীরা কার নির্দেশে কাজ করলেন? এই দীর্ঘ সময় ধরে সংস্থাটি কেন নীরব ছিল?

এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন বলেন, বিভাগীয় কর্মকর্তার সুপারিশকৃত একটি কাগজ নিয়ে ড্যাফ বাংলাদেশের লোকজন সাতক্ষীরা জেলা অফিসে যান। আমি শুধুমাত্র বিভাগীয় অফিসের কথামতো উপজেলা কর্মকর্তাদের সহযোগিতা করার নির্দেশ দিয়েছি। আর কিছু জানি না। কর্মীরা শুধুমাত্র আমাদের স্কুলগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে রাখবে, এটাই আমাদের জানানো হয়।

তবে, এই পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রাতিষ্ঠানিক সংশ্লিষ্টতা নেই বলে তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দেন।

একটি এনজিও কীভাবে সরকারের প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরকে পাশ কাটিয়ে, অধিদপ্তরের অনুমতি ছাড়া বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের মৌখিক বা আংশিক নির্দেশনার অজুহাতে স্কুলগুলোতে কর্মী নিয়োগের নামে কোটি টাকার বাণিজ্য করলো, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে স্থানীয় সচেতন মহল।

ভুক্তভোগী বেকার যুবকদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় এবং এই প্রতারণার পেছনে জড়িত ড্যাফ বাংলাদেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জড়িত প্রধান শিক্ষক এবং স্থানীয় দালাল চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত ও তাদের পরিবার।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)