যশোর, বাংলাদেশ || বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

বেসরকারি ক্লিনিকগুলোর দৌরাত্ম্য থামছেই না

স্টাফ রিপোর্টার

, যশোর

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই,২০২৬, ১১:০০ এ এম
বেসরকারি ক্লিনিকগুলোর দৌরাত্ম্য থামছেই না

যশোর জেনারেল হাসপাতালে রোগীদের ফুসলিয়ে বেসরকারি ক্লিনিকে ভাগিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে মেহেদী হাসান (২৮) নামে এক দালালকে হাতেনাতে আটক করেছে পুলিশ।

বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে হাসপাতালের অর্থোপেডিক আউটডোরের প্রবেশদ্বারের সামনে এই ঘটনা ঘটে।

আটক মেহেদী হাসান যশোর সদরের ফতেপুর ইউনিয়নের বাউলিয়া গ্রামের রেজাউল ইসলামের ছেলে। মেহেদী হাসান নিজেকে ডিএনএ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্মচারী বলে দাবি করেছেন।

বিষয়টি জানতে পেরে ডিএনএ কর্তৃপক্ষ তাদের প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থান পরিষ্কার করতে সাংবাদিকদের স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, মেহেদী হাসান তাদের প্রতিষ্ঠানের কোনো ধরনের চাকরি, প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিনিধিত্ব, দালালি বা কমিশনভিত্তিক কাজের সাথে যুক্ত নন।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, বুধবার দুপুরে যশোর জেনারেল হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগে-১২৩ নাম্বার রুমের সামনে দূর-দূরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসা আসমা ও শেফালি নামে দুই রোগীকে সরকারি সেবার নামে নানা ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যাচ্ছিলেন মেহেদী হাসান।

বিষয়টি জানতে পেরে হাসপাতালে দায়িত্বরত পুলিশর সদস্য সিরাজুল ইসলাম সিরাজসহ অন্যদের সহযোগিতায় তাকে হাতেনাতে আটক করেন। পরে তাকে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসারের (আরএমও) কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়। সেখানে আগামীতে এমন কর্মকাণ্ড আর করবেন না মর্মে একটি প্রাথমিক মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে পুনরায় এই অপরাধে লিপ্ত হলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ। এই আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতালের অন্য দালালদের মাঝে চরম আতঙ্ক দেখা দেয়।

এদিকে, এই ঘটনার পর পরই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা একাধিক ভুক্তভোগীদের অভিযোগ করেন, জেনারেল হাসপাতালকে ঘিরে অর্থপেডিক্স ক্লিনিক, যশোর ডায়াগনস্টিক সেন্টার, একতা হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ইউনিক হসপিটাল, ল্যাবজোন হসপিটাল, পপুলার হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও প্রিন্স ডায়গনস্টিক সেন্টারসহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের দালালরা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে রোগী ভাগিয়ে নিতে সকাল থেকে তৎপরতা করে। টিকিট কাউন্টারের সামনে থেকে সিসিইউ এবং প্রশাসনিক ভবনের নিচতলার বিভিন্ন চেম্বার থেকে রোগীদের প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে যায়।

একাধিকবার এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলেও অজ্ঞাত কারণে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না প্রশাসন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, শুধু দালালের দৌরাত্ম্যই নয়, ঘোপ সেন্ট্রাল রোড এলাকার আরজে ডায়াবেটিক ফুট অ্যান্ড ভাইটাল কেয়ার হাসপাতাল, আল্ট্রাভিশন, পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও আস্থা ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান কোনো বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠান দালালের পাশাপাশি ‘মার্কেটিং অফিসার’ নিয়োগ দিয়ে সরকারি হাসপাতাল থেকে প্রতিনিয়ত রোগী ভাগিয়ে নিচ্ছে।

প্রশাসনের চোখের সামনে দিনের পর দিন এমন অবৈধ ও অমানবিক বাণিজ্য চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নীরবতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এ ব্যাপারে যশোর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার হুসাইন শাফায়েত বলেন, ‘বিষয়টি আবাসিক মেডিকেল অফিসারের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। তিনি বিষয়টি মীমাংসা করেছেন।’

দালাল নিয়ন্ত্রণের জন্য সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন বলে তিনি মত দেন।

ডেপুটি সিভিল সার্জন ডাক্তার নাজমুস সাদিক রাসেল বলেন, জেলার অধিকাংশ ক্লিনিক দালালের উপরে নির্ভর করে চলে বলে অভিযোগ রয়েছে। বেসরকারি ক্লিনিকগুলোর এ দৌরাত্ম্য জেলার মানুষ অতিষ্ঠ। বিশেষ করে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনরা প্রতিনিয়ত ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবগত করা হয়েছে। দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)