আসাদুজ্জামান সরদার
, সাতক্ষীরা
চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪) প্রকল্পের মেয়াদ গত ৩০ জুন শেষ হলেও সাতক্ষীরা জেলায় এখনো ১৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়নি।
এদিকে, কাজ শেষ না করেই চূড়ান্ত বিল প্রদানের অভিযোগে তদন্তের মুখে পড়া আশাশুনি উপজেলা প্রকৌশলী অনিন্দ্য দেব সরকারকে অবশেষে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট দপ্তর সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, জেলায় পিইডিপি-৪ প্রকল্পের আওতায় মোট ১৩০টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ১১৭টির কাজ শেষ হলেও বাকি ১৩টি বিদ্যালয়ের নির্মাণকাজ মাঝপথে ঝুলে আছে। এর মধ্যে আশাশুনি উপজেলার দক্ষিণ কাদাকাটি কালীবাড়ি, দয়ারঘাট, বুড়িয়া ও গোয়ালডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়; তালা উপজেলার শিরাশুনি, ওমরপুর ও উত্তর শাহজাদপুর; শ্যামনগর উপজেলার বাইনতলা, গাবুরা, গাবুরা খোলপেটুয়া ও পশ্চিম কৈখালী এবং সাতক্ষীরা সদর উপজেলার লাবসা ও বাজুয়াডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে।
আশাশুনির দক্ষিণ কাদাকাটি কালীবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুমিতা চৌধুরী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ২০২৪ সালে কাজ শুরু হলেও এখনো শেষ হয়নি। প্রকল্পের মেয়াদই তো শেষ হয়ে গেলো, এখন বাকি কাজ কীভাবে সম্পন্ন হবে, তা নিয়ে আমরা চরম দুশ্চিন্তায় আছি।
এর আগে আশাশুনির ছয়টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নামমাত্র কাজ করে প্রায় তিন কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে উপজেলা প্রকৌশলী অনিন্দ্য দেব সরকার ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী বাপ্পী কুমার দাসের বিরুদ্ধে খুলনা বিভাগীয় এলজিইডির তদন্ত দল সরজমিন অনুসন্ধান চালায়।
দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর অনিন্দ্য দেব সরকারকে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় তাৎক্ষণিক বদলি (স্ট্যান্ড রিলিজ) করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি পরিবার ও সন্তানদের ভুয়া তথ্য দিয়ে সাময়িকভাবে সেই বদলি আদেশ স্থগিত করান, যা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। তবে, শেষ রক্ষা হয়নি; অনিয়মের তদন্ত রিপোর্ট জমা পড়ার পরপরই তাকে শাস্তিমূলকভাবে বর্তমান কর্মস্থল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
অভিযুক্ত উপজেলা প্রকৌশলী অনিন্দ্য দেব সরকার তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিন কোটি টাকা আত্মসাতের যে দাবি করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বিদ্যালয়গুলোর নির্মাণকাজ নিয়ম মেনেই করা হয়েছে এবং প্রাক্কলন অনুযায়ীই বিল পরিশোধ করা হয়েছে। কোনো প্রকার সরকারি অর্থ তছরুপের ঘটনা ঘটেনি। আর বদলি স্থগিতের আবেদনের বিষয়ে যে ভুল তথ্যের কথা বলা হচ্ছে, তা মূলত টাইপিংয়ের কারণে অনিচ্ছাকৃতভাবে দুটি লাইন ভুল এসেছে।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন বলেন, বিদ্যালয় ভবন নির্মাণে গুণগত মান বজায় রাখা জরুরি। আমরা প্রধান শিক্ষক ও বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটিকে কাজ যথাযথভাবে বুঝে নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছি।
সার্বিক বিষয়ে জানতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সাতক্ষীরার নির্বাহী প্রকৌশলী এএসএম তারিকুল হাসান খানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।