যশোর, বাংলাদেশ || মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

সম্পাদকীয়

শুধু খনন নয়, ভৈরব বাঁচাতে সমন্বিত উদ্যোগ নিন

প্রকাশ : সোমবার, ৩ আগস্ট,২০২৬, ০৯:০০ এ এম
শুধু খনন নয়, ভৈরব বাঁচাতে সমন্বিত উদ্যোগ নিন

ভৈরব নদ পুনরুদ্ধারে ২৭৯ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রকল্প শেষ হয়েছে তিন বছর আগে। অথচ, আজও ফেরেনি নদের প্রাণ পজায়ার-ভাটা। নিয়মিত নৌচলাচল তো দূরের কথা, নদের বড় অংশ এখন কচুরিপানা ও বর্জ্যে পরিপূর্ণ। এটি শুধু অর্থের অপচয় নয়, এটি একটি নদী ও তার ওপর নির্ভরশীল জীবনব্যবস্থার প্রতি চরম অবহেলা।

সুবর্ণভূমির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, নদের ওপর ৫৪টি অপরিকল্পিত সেতু ও কালভার্ট পানিপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করছে। অথচ, পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে থেকেই এই সমস্যা চিহ্নিত করেছিল। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে চিঠি দেওয়া হলেও অধিকাংশ স্থাপনা আজও অপরিবর্তিত। এটাই আমাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দুর্বলতার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। একটি প্রকল্প শুধু কাগজে-কলমে শেষ করলেই হয় না; এর সুষ্ঠু বাস্তবায়ন ও টেকসই ফলাফল নিশ্চিত করা আবশ্যক। কিন্তু এখানে দেখা যাচ্ছে, আন্তঃসংস্থার সমন্বয়হীনতা ও উদাসীনতায় প্রকল্পের মূল লক্ষ্যই ব্যর্থ হয়েছে।

ভৈরব নদ যশোরের ইতিহাস, অর্থনীতি ও পরিবেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই নদের সঙ্গে জড়িয়ে আছে জনজীবন, কৃষি ও বাণিজ্য। কিন্তু সংকীর্ণ সেতু, উজানের সংযোগ বিচ্ছিন্নতা, দখল ও দূষণের ফলে নদীটি আজ মৃতপ্রায়। শুধু খনন করে লাভ নেই, যদি না উজানের পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করা যায় এবং নদের স্বাভাবিক গতিপথে বাধা সৃষ্টিকারী স্থাপনাগুলো অপসারণ বা পুনর্নির্মাণ করা হয়। পরিবেশ আন্দোলনকর্মীরা যেমন বলেছেন, ভৈরব, কপোতাক্ষ, মুক্তেশ্বরী ও চিত্রা নদ-নদীগুলোকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। এদের মধ্যে আন্তঃসংযোগ ও সামগ্রিক পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত না করলে কোনো খণ্ডিত উদ্যোগই সফল হবে না।

আমরা দেখতে পাচ্ছি, প্রকল্প শেষ হওয়ার পরও নদের তলদেশের অনেক অংশ উঁচু রয়েছে, ধারাবাহিক রক্ষণাবেক্ষণ নেই, এবং নতুন কিছু সেতুও নির্মাণ করা হয়েছে নদী আইন উপেক্ষা করে। এটি সুস্পষ্ট করে যে, আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে জবাবদিহি ও সমন্বয়ের অভাব প্রকল্পের কার্যকারিতাকে কতটা ক্ষুণ্ন করে। জনগণের করের টাকায় বাস্তবায়িত এসব প্রকল্পের সফলতা নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক সক্ষমতা বাড়ানো, আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি।

এখন সময় এসেছে কেবল দুঃখপ্রকাশ বা পরিকল্পনার কথা বলার নয়। সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা তথা পানি উন্নয়ন বোর্ড, এলজিইডি, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, রেলওয়ে, বিএডিসি-কে দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগ নিয়ে বাধাগ্রস্ত স্থাপনাগুলো পুনর্নির্মাণ বা অপসারণ করতে হবে। উজানের সঙ্গে নদের সংযোগ স্থাপন, দখল উচ্ছেদ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে, নদী রক্ষায় স্থানীয় জনগণ ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোকে সম্পৃক্ত করে দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ কাঠামো তৈরি করতে হবে।

ভৈরব নদ পুনরুদ্ধার প্রকল্পের ব্যর্থতা আমাদের শিক্ষা দিয়েছে যে, পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের মধ্যে যে ব্যবধান, তা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। প্রকৃত উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন একটি প্রকল্প শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তার উদ্দেশ্য সফল হয় এবং জনগণ তার সুফল পায়। ভৈরব নদের মতো একটি ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ নদীকে পুনর্জীবিত করা সম্ভব যদি থাকে আন্তরিক প্রচেষ্টা, সমন্বিত উদ্যোগ এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধা। না হলে আরও শত কোটি টাকা ব্যয় করেও আমরা ফিরিয়ে আনতে পারবো না এর হারানো প্রাণ।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)