যশোর, বাংলাদেশ || বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

সম্পাদকীয়

সৌরবিদ্যুতের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে চাই সমন্বিত বাস্তবায়ন পদ্ধতি

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর,২০২৬, ০৯:০০ এ এম
সৌরবিদ্যুতের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে চাই সমন্বিত বাস্তবায়ন পদ্ধতি

আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর চাপ কমিয়ে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত সময়োপযোগী। ২০৩০ সালের মধ্যে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার মেগাওয়াট, ভূমিভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে সাড়ে চার হাজার মেগাওয়াট এবং বায়ু, বর্জ্য, পানিবিদ্যুৎ, ভাসমান সৌর ও এগ্রিভোলটাইকসহ অন্যান্য উৎস থেকে আরও ৪৫০ থেকে ৫৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উচ্চাভিলাষী হলেও এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হলে দেশের জ্বালানি ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসতে পারে।

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাত দীর্ঘদিন ধরে আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ এবং সরবরাহের অনিশ্চয়তা বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় ও দেশের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলে। ফলে সৌরবিদ্যুতের মতো দেশীয় ও নবায়নযোগ্য উৎসের ব্যবহার বাড়ানো শুধু পরিবেশ সুরক্ষার বিষয় নয়, এটি অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রয়োজনও। সূর্যালোকের প্রাচুর্যকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো গেলে একদিকে আমদানি ব্যয় কমবে, অন্যদিকে জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র্য বাড়বে।

সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আমদানিতে ছয় মাসের জন্য কর-সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দেখা যায়। এতে প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় কমতে পারে এবং বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত হবে। তবে এই সুবিধার সুফল যেন প্রকৃত বিনিয়োগকারীদের কাছে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সৌর প্যানেল, ইনভার্টার, ব্যাটারি ও অন্যান্য সরঞ্জামের মান নিয়ন্ত্রণ জরুরি। নিম্নমানের যন্ত্রপাতি বাজারে প্রবেশ করলে দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগকারীর আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের ক্ষেত্রে প্রতি ইউনিটের মূল্য সাড়ে দশ টাকা নির্ধারণের ঘোষণাও গুরুত্বপূর্ণ। তবে সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি গ্রিডের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। হাজার হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পর তা গ্রিডে কার্যকরভাবে যুক্ত করা না গেলে পুরো উদ্যোগের সুফল পাওয়া যাবে না। নেট মিটারিং ব্যবস্থাকেও আরও সহজ ও দ্রুত করতে হবে।

ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ বিশেষ গুরুত্ব পাওয়ার যোগ্য। শিল্পকারখানা, বাণিজ্যিক ভবন, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক ভবনের ছাদ কাজে লাগানো গেলে নতুন জমির প্রয়োজন কমবে এবং উৎপাদন ও ব্যবহারের দূরত্বও কমানো সম্ভব হবে। তবে নীতিমালা প্রণয়নের পাশাপাশি বাস্তবায়নের জটিলতা দূর করাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ। অনুমোদনের দীর্ঘসূত্রতা, গ্রিড-সংযোগ, জমি, অর্থায়ন এবং বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে গতি আনতে হবে।

সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন প্রসারের সঙ্গে বিদ্যুৎ সংরক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়নও জরুরি। কারণ দিনের আলোনির্ভর সৌরবিদ্যুৎ সব সময় সমান হারে উৎপাদিত হয় না। ভবিষ্যতে ব্যাটারি স্টোরেজসহ আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। পাশাপাশি বায়ু, বর্জ্য, পানিবিদ্যুৎ ও অন্যান্য নবায়নযোগ্য উৎসের সমন্বিত বিকাশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

সবচেয়ে জরুরি হলো, ঘোষিত লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ তৈরি করা। বছরভিত্তিক উৎপাদন লক্ষ্য, প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ, গ্রিড সম্প্রসারণ এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়মিতভাবে জনসমক্ষে প্রকাশ করা উচিত। নীতিমালা ও প্রণোদনা তখনই কার্যকর হবে, যখন সেগুলোর বাস্তব প্রয়োগে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা থাকবে।

২০৩০ সালের সাড়ে পাঁচ হাজার মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎ লক্ষ্যমাত্রা তাই নিছক একটি সংখ্যা নয়; এটি দেশের জ্বালানি ভবিষ্যতের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে টেকসই ও নিরাপদ বিদ্যুৎব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে এই সংক্রান্ত কার্যক্রম সমন্বিতভাবে এগিয়ে নিতে হবে।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)