তারেক মাহমুদ
, কালীগঞ্জ
সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহারের পর কালীগঞ্জ সরকারি মাহতাব উদ্দিন ডিগ্রি কলেজে যোগ দেন অধ্যক্ষ ড. মো. মাহবুবুর রহমান। সুবর্ণভূমি-
ছবি:
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ সরকারি মাহতাব উদ্দিন ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ড. মো. মাহবুবুর রহমান ১২ বছর পর নিজ কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন। সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করে তাকে চাকরিতে পুনর্বহাল করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে গত ৭ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের শৃঙ্খলা বিষয়ক শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৫এর ১৯ বিধি অনুযায়ী ড. মো. মাহবুবুর রহমানের সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করে তাকে সরকারি চাকরিতে পুনর্বহাল করা হয়েছে। আদেশটি কার্যকর ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, ঝিনাইদহ জেলা ও উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা এবং কালীগঞ্জ সরকারি মাহতাব উদ্দিন ডিগ্রি কলেজসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন জারির ফলে ১২ বছর পর নিজ কর্মস্থলে ফিরলেন অধ্যক্ষ ড. মো. মাহবুবুর রহমান।
২০১৪ সালে পবিত্র হজ পালন শেষে দেশে ফিরে তিনি জানতে পারেন, তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। মিথ্যা ও হয়রানিমূলক অভিযোগে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মাধ্যমে তাকে ক্যাম্পাস ছাড়তে বাধ্য করা হয় বলেও তিনি দাবি করেন। এ ঘটনায় নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ তিনি করেন তৎকালীন সাবেক এমপি আনোয়ারুল আজিম আনার, সুব্রত কুমার, আব্দুল মজিদ মণ্ডল, শরিফুল ইসলাম ও যশোরের গোলাম রসুলের বিরুদ্ধে।
অধ্যক্ষ ড. মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘পবিত্র হজে থাকাকালীন মিথ্যা অভিযোগে আমাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। আইনিভাবে তা মোকাবিলা করেছি এবং আমার প্রাপ্য ফিরে পেয়েছি। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ে যারা আমার পাশে ছিলেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। এখন সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা নিয়ে ঐতিহ্যবাহী এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নিতে কাজ করবো, ইনশাআল্লাহ।’