যশোর, বাংলাদেশ || বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

সম্পাদকীয়

এলপিজির নির্ধারিত দাম কাগজে: ভোক্তার দুর্ভোগ কমাতে ব্যবস্থা নিন

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর,২০২৬, ০৯:০০ এ এম
এলপিজির নির্ধারিত দাম কাগজে: ভোক্তার দুর্ভোগ কমাতে ব্যবস্থা নিন

দেশে এলপিজির বাজারে যে চিত্রটি এখন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, তাতে বাজার ব্যবস্থাপনায় রাষ্ট্রের সক্ষমতা, নজরদারি এবং জবাবদিহির বড় প্রশ্নও সামনে নিয়ে এনেছে। বাংলাদেশ অ্যানার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে এক হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করেছে। কিন্তু বাস্তবে সেই দামে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। রাজধানী থেকে জেলা শহর—অনেক জায়গাতেই ভোক্তাকে একটি সিলিন্ডারের জন্য দুই হাজার ২০০ থেকে দুই হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে। অর্থাৎ সরকারি মূল্য যেন কেবল কাগজেই সীমাবদ্ধ।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, বাজারে সরবরাহ-সংকট থাকলেও এলপিজি আমদানিতে বড় ধরনের ঘাটতির তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে যথাক্রমে এক লাখ ৫৮ হাজার ও এক লাখ ৫৬ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি আমদানি হয়েছে। আমদানি যদি মোটামুটি স্বাভাবিক থাকে, তাহলে বাজারে কেন এমন তীব্র সংকট—এই প্রশ্নের উত্তর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই দিতে হবে।

সরবরাহ কমে যাওয়ার জন্য ব্যবসায়ীরা নানা যুক্তি দেখাচ্ছেন। কেউ বলছেন কোম্পানিগুলো সরবরাহ কমিয়েছে, কেউ বলছেন ডিলাররা বেশি দামে গ্যাস দিচ্ছেন। আবার ডিলারদের দাবি, মূল ডিপো থেকেই নির্ধারিত দামে পর্যাপ্ত গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। অর্থাৎ সরবরাহব্যবস্থার প্রতিটি স্তরেই যেন দায় অন্যের ওপর চাপানোর প্রবণতা। মাঝখানে পড়ে সবচেয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন সাধারণ ভোক্তা।

এখানে সরকারি কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। বিইআরসি মূল্য নির্ধারণ করছে, কিন্তু সেই মূল্য বাজারে কার্যকর হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব কে নেবে? শুধু দাম ঘোষণা করে রাষ্ট্রের দায়িত্ব শেষ হতে পারে না। বাজারে নির্ধারিত দামে পণ্য পাওয়া যাচ্ছে কি না, সরবরাহ ঠিক আছে কি না এবং কোনো পক্ষ কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত মুনাফা করছে কি না—এসব বিষয় নিয়মিত তদারকি করা জরুরি।

এলপিজি এখন আর বিলাসী পণ্য নয়। দেশের প্রায় এক কোটি পরিবার ও প্রতিষ্ঠান রান্না, শিল্প ও পরিবহনে এর ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে গৃহস্থালি কাজে এর ব্যবহার ব্যাপক। চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য যখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে, তখন গ্যাসের ক্ষেত্রেও যদি কয়েক শ’ টাকা অতিরিক্ত দিতে হয়, তা মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর সরাসরি বাড়তি চাপ তৈরি করে। অথচ মানুষের আয় সেই অনুপাতে বাড়ছে না।

সরকারকে তাই দ্রুত ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রথমত, এলপিজির আমদানি, মজুত, ডিপো থেকে সরবরাহ এবং খুচরা বিক্রয়—পুরো সরবরাহশৃঙ্খলা স্বচ্ছভাবে নজরদারির আওতায় আনতে হবে। দ্বিতীয়ত, যেসব প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসায়ী নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে গ্যাস বিক্রি করছেন, তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। তৃতীয়ত, কৃত্রিম সংকটের অভিযোগ তদন্ত করে প্রকৃত কারণ জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে। প্রয়োজনে প্রতিটি পর্যায়ে দৈনিক মজুত ও সরবরাহের তথ্য প্রকাশ করা যেতে পারে।

এলপিজির দাম নির্ধারণের পাশাপাশি বাজারে তা বাস্তবায়ন করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সরকারি মূল্যে যদি ভোক্তা পণ্য কিনতে না পারে, তাহলে মূল্য নির্ধারণের পুরো ব্যবস্থাটিই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। মানুষের রান্নাঘরে স্বস্তি ফেরাতে হলে কাগজের সিদ্ধান্ত নয়, বাজারে তার কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। এলপিজির এই সংকট তাই দ্রুত সমাধান করা শুধু অর্থনৈতিক নয়, জনস্বার্থ ও সরকারের প্রতি মানুষের আস্থার প্রশ্নও।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)