যশোর, বাংলাদেশ || শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

সুন্দরবনে বাড়ছে চোরা শিকারিদের দৌরাত্ম্য

বাগেরহাট প্রতিনিধি

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই,২০২৬, ১১:৫১ পিএম
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই,২০২৬, ১১:৫১ পিএম
সুন্দরবনে বাড়ছে চোরা শিকারিদের দৌরাত্ম্য

সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সম্পদ এখন হুমকির মুখে। বন বিভাগের অভিযান, মামলা ও গ্রেপ্তার বাড়লেও থামছে না চোরাশিকারি, বনজ সম্পদ লুটেরা এবং অবৈধ মৎস্য শিকারি চক্রের তৎপরতা।

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পশ্চিম সুন্দরবনের খুলনা রেঞ্জে ২৯৪টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ৩৯৬ জন গ্রেপ্তার হলেও এখনো পলাতক রয়েছেন ৬৩ জন। একই সময়ে উদ্ধার করা হয়েছে ৪৮৭ কেজি হরিণের মাংস, পাঁচ হাজার ৭১২ মিটার হরিণ ধরার ফাঁদ, ছয় হাজার ৯৮৬টি অবৈধ কাঁকড়া ধরার ফাঁদ এবং বিপুল পরিমাণ মাছ ও কাঁকড়া আহরণের সরঞ্জাম।

বন বিভাগের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বন অপরাধ এখন আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। হরিণ শিকার, বিষ প্রয়োগে মাছ ধরা, অভয়ারণ্যে প্রবেশ করে কাঁকড়া আহরণ এবং বনজ সম্পদ পাচারের সঙ্গে জড়িত রয়েছে একটি সক্রিয় নেটওয়ার্ক।

খুলনা রেঞ্জে গত এক বছরে অভয়ারণ্যে মাছ ও কাঁকড়া আহরণের অভিযোগে ১০৬টি এবং বিষ প্রয়োগে মাছ শিকারের ঘটনায় ৩৩টি মামলা হয়েছে। এছাড়া হরিণ শিকার ও বন্যপ্রাণী সংক্রান্ত মামলা হয়েছে ৩৩টি।

অনেক সময় অভিযানের খবর আগেই ফাঁস হয়ে যায়। ফলে, অপরাধীরা নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে সক্ষম হয়। আবার অনেক ক্ষেত্রে দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে অপরাধীদের ধরতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সুন্দরবনে হরিণ শিকারে আধুনিক ফাঁদ ও সংগঠিত দল ব্যবহৃত হচ্ছে। শিকারিরা গভীর বনের নির্জন এলাকায় দীর্ঘ ফাঁদ পেতে রাখে। অনেক ক্ষেত্রে রাতে প্রবেশ করে হরিণ জবাই করে মাংস দ্রুত নদীপথে পাচার করা হয়।

গত এক বছরে উদ্ধার হওয়া হরিণের মাংস এবং ফাঁদ পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে। বন বিভাগ ইতোমধ্যে হরিণ শিকার ও বন্যপ্রাণী নিধনের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ১৩৫ জনের একটি বিশেষ তালিকা তৈরি করেছে। তাদের গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। গত এক বছরে ৮৭ বোতল নিষিদ্ধ কীটনাশক জব্দ করা হয়েছে।

খুলনা রেঞ্জের বিভিন্ন স্টেশন ও টহল ফাঁড়িতে কর্মরত কর্মকর্তারা জানান, অনেক ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত জনবল ছাড়াই দুর্গম এলাকায় অভিযান পরিচালনা করতে হয়। আধুনিক জলযান, যোগাযোগ সরঞ্জাম এবং প্রযুক্তিগত সহায়তার ঘাটতিও রয়েছে।

সুন্দরবনের অপরাধের অন্যতম মূল কারণ বননির্ভর জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক সংকট। উপকূলীয় অঞ্চলের হাজার হাজার পরিবার মাছ, কাঁকড়া, মধু ও গোলপাতা আহরণের ওপর নির্ভরশীল। বিকল্প কর্মসংস্থান না থাকায় অনেকেই ঝুঁকি নিয়ে বনাঞ্চলে প্রবেশ করেন।

সুন্দরবন খুলনা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক ও রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, স্মার্ট টহল টিম, বিশেষ টহল টিম এবং ফুট পেট্রোলিংয়ের মাধ্যমে বন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কাজ করা হচ্ছে। ড্রোন ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারও বাড়ানো হয়েছে। তবে অপরাধ দমনে সামাজিক অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পশ্চিম সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) এজেডএম হাছানুর রহমান বলেন, বনরক্ষীরা চরম ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি, ড্রোন ব্যবহার এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের কারণে বন অপরাধ আগের তুলনায় কমেছে। তবে, দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের জন্য জনবল ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)