মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি
মণিরামপুরে নিখোঁজের দুই দিন পর মহাসিন মোল্যা (২৩) নামে এক ভ্যানচালকের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার পারখাজুরা বাঁওড়ের রামপুর ঘাট এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। মরদেহে পচন ধরেছে এবং মুখ দিয়ে রক্ত বের হওয়ার আলামত পাওয়া গেছে।
পুলিশ ও নিহতের স্বজনদের প্রাথমিক ধারণা, দুর্বৃত্তরা তাকে হত্যা করে ব্যাটারিচালিত ইঞ্জিন ভ্যান এবং দুটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে মরদেহ বাঁওড়ের পানিতে ভাসিয়ে দেয়। পরে সেটি রামপুর ঘাটের কাছে একটি বাঁশঝাড়ে আটকে যায়।
নিহত মহাসিন উপজেলার চালুয়াহাটি ইউনিয়নের চালুয়াহাটি গ্রামের জাহেদ মোল্যার ছেলে। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিনি নিখোঁজ হন।
নিহতের বড় ভাই মিলন মোল্যা বলেন, ‘‘মঙ্গলবার বিকেলে ভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয় মহাসিন। সন্ধ্যার ঠিক আগে শয়লা বাজারে তার সাথে আমার শেষ দেখা হয়েছিল। 'একটা বড় ভাড়া পেয়েছি, ঘুরে আসি' বলে সে চলে যায়। এরপর থেকে তার আর কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না।”
মিলন মোল্যা আরও বলেন, ‘বুধবার আমরা মণিরামপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করি। আজ সকালে বাড়ি থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে রামপুর বাঁওড়ে মহাসিনের লাশ ভেসে ওঠার খবর পাই। আমার ভাইয়ের কাছে দুটি মোবাইল ফোন, নগদ টাকার একটি ব্যাগ ও ইঞ্জিন ভ্যানটি ছিল; যার কিছুই পাওয়া যায়নি।’
এ বিষয়ে মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাঈদ জানান, বাঁওড় থেকে নিখোঁজ ভ্যানচালকের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে সাথে থাকা ভ্যান ও মালামাল এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
তিনি আরও বলেন, মরদেহটিতে পচন ধরে ফুলে যাওয়ায় খালি চোখে আঘাতে চিহ্ন স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ বিস্তারিত জানা যাবে।