স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
যশোরে এক ব্যবসায়ী তার সাবেক স্ত্রীর পরিবারসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ৩০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, প্রাণনাশের হুমকি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা এবং ফ্ল্যাট দখলের অভিযোগ উঠেছে।
রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন ব্যবসায়ী মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম নাইচ।
লিখিত বক্তব্যে রফিকুল ইসলাম বলেন, দুই লাখ টাকা কাবিনের বিষয়টিকে কেন্দ্র করে তার সাবেক স্ত্রী, সাবেক শাশুড়িসহ কয়েকজন অনৈতিকভাবে তার কাছে ৩০ লাখ টাকা দাবি করছেন। দাবিকৃত টাকা না দিলে মাদক বা অস্ত্র দিয়ে ফাঁসিয়ে দেওয়া, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করা এবং তার সন্তানকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আরও দাবি করেন, তার মালিকানাধীন একটি ফ্ল্যাট জোরপূর্বক দখল করে রাখা হয়েছে। ফ্ল্যাট ফেরত চাইলে ৩০ লাখ টাকা পরিশোধের শর্ত দেওয়া হচ্ছে, অন্যথায় সন্তানের ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এসব কারণে তিনি বর্তমানে স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারছেন না বলে জানান।
রফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাগুলোর প্রতিকার চেয়ে তিনি ইতোমধ্যে দু’বার সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। এছাড়া গত ২০ জুলাই জেলা জজ আদালতে আবেদন করলে আদালত বিষয়টি তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেন। বর্তমানে বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, গত ১ জুলাই তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো হয়। পরবর্তীতে ১৩ জুলাই আবারও তার ওপর হামলার চেষ্টা করা হয় এবং একই দিনে বড়বাজারে তার বাবার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও হামলা চালানো হয়। তার দাবি, ১৫ থেকে ২০ জন বহিরাগত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে তাকে মাদক দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করে। খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
চাঁদা দাবির পেছনে পারিবারিক বিরোধের কথা উল্লেখ করে রফিকুল ইসলাম বলেন, তার সাবেক স্ত্রী ও তার পরিবারের দাবি, ব্যবসা, ফ্ল্যাট ও স্বর্ণালংকার কেনার জন্য তারা অর্থ দিয়েছিলেন। এ দাবি সম্পূর্ণ অস্বীকার করে তিনি জানান, ব্যাংক থেকে ৪৯ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে তিনি ব্যবসা পরিচালনা করছেন ও ফ্ল্যাট কিনেছেন। এ সংক্রান্ত সব কাগজপত্র তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাবেক স্ত্রী লামিয়া ইসলাম, শ্যালিকা রেবেকা ইসলাম এবং শাশুড়ি সারা বানুসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ জানান। একই সাথে তার ও পরিবারের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং চাঁদাবাজি ও প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন রফিকুল ইসলামের বড় ভাই শহিদুল ইসলাম, যশোর জেলা ইলেকট্রনিক্স ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মঙ্গল শিকদার, সাধারণ সম্পাদক আদনান রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কংকন কুণ্ডু, সদস্য রায়হান ইসলাম, আবু সাঈদ, আমিরুল ইসলামসহ ব্যবসায়ীরা।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত লামিয়া ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।