যশোর, বাংলাদেশ || মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

আসামি নুরুজ্জামান ভোলার আদালতে স্বীকারোক্তি

দোকান পোড়ানোর চুক্তির টাকা না দেওয়ায় খুন করা হয় ‘চশমা সাঈদকে’

স্টাফ রিপোর্টার

, যশোর

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট,২০২৬, ১২:০০ পিএম
আপডেট : মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট,২০২৬, ১২:১২ এ এম
দোকান পোড়ানোর চুক্তির টাকা না দেওয়ায় খুন করা হয় ‘চশমা সাঈদকে’

যশোর সদরের আরবপুর ইউনিয়নের রঘুরামপুরে চিহ্নিত সন্ত্রাসী সাঈদ সরদার ওরফে চশমা সাঈদ হত্যামামলার রহস্য উদঘাটন হয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ।

এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে নূরুজ্জামান ভোলা নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। রোববার (২৩ আগস্ট) রাতে শহরের চোরাস্তা এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। পরদিন সোমবার আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি হত্যার সাথে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন। শেষে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

পুলিশ জানায়, চশমা সাঈদ মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই জাহিদ সরদার অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার এসআই শেখ আশরাফুল আলম জানান, চশমা সাঈদ হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এর আগে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। তবে জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে গত রোববার রাত সাড়ে ৭টার দিকে শহরের চোরাস্তা এলাকা থেকে নূরুজ্জামান ভোলাকে আটক করা হয়। তার বাড়ি যশোর সদর উপজেলার বড় ভেকুটিয়া গ্রামে। আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

আদালত ও পুলিশ সূত্র জানায়, আরবপুর ইউনিয়ন পরিষদ এলাকার মিজানুর রহমান মিন্টু নামে এক ব্যক্তির চায়ের দোকান রয়েছে। ওই দোকানির সঙ্গে চশমা সাঈদের বিরোধ ছিল। এর জেরে দোকানটি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার জন্য নূরুজ্জামান ভোলার সঙ্গে চুক্তি করেন চশমা সাঈদ। এ জন্য ভোলাকে ১০ হাজার টাকা, পাঁচ পিস ইয়াবা ও গাঁজা দেবেন বলে চুক্তি হয়। পরে তাকে নগদ ১১শ’ টাকা, পাঁচ পিস ইয়াবা ও গাঁজা দেওয়া হয়। এরপর ভোলা ওই চায়ের দোকানে আগুন দেন। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে আগুন দেওয়ার ঘটনায় নূরুজ্জামান ভোলাকে দেখা গেছে। বিষয়টি প্রকাশ হলে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। পরে গোপনে চশমা সাঈদের সঙ্গে দেখা করে বাকি টাকা দাবি করেন ভোলা। টাকা নিয়ে বিরোধ তৈরি হলে চশমা সাঈদ তাকে টাকা দেওয়ার বদলে উল্টো গাছের সঙ্গে বেঁধে মারপিট করেন এবং পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার ভয় দেখান। এ ঘটনায় ভোলার মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

গত ২৩ জুন রাতে রঘুরামপুরে নিজ বাড়ির পাশে থাকা চশমা সাঈদের কাছে গিয়ে তিনি চুক্তির বাকি টাকা দাবি করেন। এ সময় টাকা দিতে অস্বীকার করলে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ভোলা কাছে থাকা চাকু দিয়ে চশমা সাঈদের শরীরে আঘাত এবং গলা কেটে হত্যা করেন বলে পুলিশের দাবি। পরে ভোলা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

আদালত ও পুলিশ সূত্র জানায়, একটি চায়ের দোকান পুড়িয়ে দেওয়ার জন্য ভোলার সঙ্গে দশ হাজার টাকায় চুক্তি করেন চশমা সাঈদ। কিন্তু চুক্তির টাকা পরিশোধ না করায় ক্ষিপ্ত হয়ে ভোলা তাকে হত্যা করেন।

২৪ জুন সকালে রঘুরামপুর গ্রামের নিজ বাড়ির পাশের একটি কলাবাগানের ভেতর থেকে গলা কাটা অবস্থায় চশমা সাঈদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি একই এলাকার নয়া সরদারের ছেলে। ঘটনাস্থল থেকে একটি চাকুও উদ্ধার করা হয়।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)