স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার দোহাকোলা গ্রামে জনৈকা গোলাপি খাতুনের বাড়ির ডাকাতি মামলাটি সিআইডি পুলিশকে পুনঃতদন্তের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাকিয়া সুলতানা তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর নারাজি আবেদনের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
মামলার অভিযোগে জানা গেছে, ২০২৬ সালের ৭ এপ্রিল রাত আড়াইটার দিকে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে একদল লোক দোহাকুলা গ্রামের গোলাপি খাতুনের বাড়িতে চড়াও হয়। দরজা ভাঙার শব্দে গোলাপি ও তার মেয়ে ঘুম থেকে উঠে বাইরের লাইট জ্বালিয়ে ‘ডাকাত ডাকা ‘ বলে চিৎকার করে বাথরুমে পালান। এর মধ্যে হামলাকারীরা টিনের বেড়া কেটে ঘরে ঢুকে গোলাপি ও তার মেয়ে রিমিকে বের করে উঠানে ফেলে বেদম মারপিট করে। গুরুতর আহত গোলাপির মাথা কেটে যায় এবং বাম হাতের দুটি হাড় ভেঙে যায়।
পরে হামলাকারীরা দোকানের ভেতর ঘুমিয়ে থাকা গোলাপির বাবা নুরুল ইসলামকেও মারপিট করে গুরুতর জখম করে। আহতদের প্রথমে বাঘারপাড়া ও পরে গোলাপি খাতুনকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হামলাকারীরা গোলাপিদের ঘর নির্মাণের জন্য রাখা নগদ দুই লাখ টাকা, দোকানের ক্যাশবাক্স থেকে এক লাখ ৩৩৮ টাকা, সোনার গহনা, দোকানের মালামাল, টিনের চাল ও বেড়াসহ বিপুল পরিমাণ সম্পদ লুট করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়। চিকিৎসা শেষে গোলাপি খাতুন এ বিষয়ে বাঘারপাড়া থানায় মামলা করতে গেলে কর্তৃপক্ষ তা গ্রহণ না করায় তিনি ২০ এপ্রিল আদালতে মামলা করেন। আদালতের আদেশে অভিযোগটি ১ মে বাঘারপাড়া থানায় নিয়মিত মামলা হিসেবে রেকর্ড হয়।
কামরুল, আজিজুর, তৌহিদ, তারেক, ফরিদ, টুটুল, সুমন, নাঈম, হারুন, তৈমুর, রাসেল, ইমামুল, মুন্না, সোহাগ ও মিঠুসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫/২০ জনকে এ মামলার আসামি করা হয়।
তদন্ত শেষে এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই প্রসেনজিৎ কুমার মন্ডল এজাহারভুক্ত সব আসামির অব্যাহতি চেয়ে আদালতে ফাইনাল রিপোর্ট জমা দেন। মামলার বাদী গোলাপি বেগম তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর নারাজি আবেদন করেন। এ আবেদনের শুনানি শেষে আদালত সিআইডি পুলিশকে পুনঃতদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।