স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
যশোর জেনারেল হাসপাতালের বহির্বিভাগের এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে চিকিৎসা নিতে আসা এক নারী রোগীকে ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল এবং দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক কাজে বাধ্য করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
অভিযুক্ত কর্মচারীর নাম আলমগীর হোসেন। তিনি হাসপাতালের বহির্বিভাগের হেল্প ডেস্কে কর্মরত। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, শারীরিক অসুস্থতার কারণে ওই নারী যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে বহির্বিভাগের ১২২/১৩৩ নম্বর কক্ষের সামনে হেল্প ডেস্কে কর্মরত আলমগীর হোসেনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়।
পরবর্তী সময়ে হাসপাতালে গেলে আলমগীর তাকে টিকিট কেটে দেওয়া, চিকিৎসকের কাছে নেওয়া ও ওষুধের ব্যবস্থা করে দিতেন। এভাবে তাদের মধ্যে পরিচিতি ও সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে।
লিখিত অভিযোগে ওই নারী দাবি করেন, একদিন ওষুধের জন্য হাসপাতালে গেলে আলমগীর তাকে জানান, প্রয়োজনীয় ওষুধ তার বাড়িতে রয়েছে।
এরপর তিনি ওই নারীকে মোটরসাইকেলে করে শহরের বারান্দিপাড়ায় তার ভাড়া বাসায় নিয়ে যান।
সেখানে তাকে জোরপূর্বক অনৈতিক কাজে বাধ্য করা হয় এবং ওই ঘটনার ভিডিও গোপনে ধারণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, পরবর্তী সময়ে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে এবং ব্ল্যাকমেইল করে গত তিন বছর ধরে তাকে একাধিকবার অনৈতিক কাজে বাধ্য করা হয়েছে।
ওই নারী আরও অভিযোগ করেন, শুধু আলমগীরের ভাড়া বাসায় নয়, যশোর জেনারেল হাসপাতালের বহির্বিভাগের দন্ত বিভাগে ১১৯ নম্বর কক্ষেও তাকে একাধিকবার জোরপূর্বক অনৈতিক কাজে বাধ্য করা হয়েছে।
ভিডিওগুলো মুছে ফেলার জন্য বারবার অনুরোধ করলেও আলমগীর তা করেননি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। একপর্যায়ে কৌশলে আলমগীরের মোবাইল ফোন থেকেই ঘটনার একটি ভিডিও তিনি উদ্ধার করতে সক্ষম হন বলেও দাবি করেন।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে আলমগীর ও ওই নারীকে হাত ধরাধরি করে একটি কক্ষে প্রবেশ করতে এবং আলমগীরকে নিজ হাতে একটি স্থানে মোবাইল ফোন সেট করতে দেখা যায়।
ভিডিওতে আলমগীরের পরনে কালো প্যান্ট ও সাদা শার্ট এবং ওই নারীর পরনে ছাই রঙের পোশাক দেখা যায়।
অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর বিভিন্ন মাধ্যমে ভুক্তভোগী নারীকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আলমগীর হোসেন নিজের দোষ স্বীকার করে বলেন, ‘আমি অন্যায় করেছি। ভিডিও প্রকাশিত হওয়ায় আমিও লজ্জিত। আমি জোড় হাত করে মাফ চাচ্ছি, আমাকে মাফ করে দিন।’
যশোর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুসাইন শাফায়েত বলেন, গত ২৮ সেপ্টেম্বর তিনি এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘ইতিমধ্যে হাসপাতালে দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করেছি ওই নারীর তথ্য জানতে।
কারণ, ওই নারী হানি ট্র্যাপের সদস্যও হতে পারেন। সত্যিই ওই নারী ভুক্তভোগী কি না এবং আমাদের কর্মচারী দোষী কি না, তা তদন্ত না করে বলা সম্ভব নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘তবে হাসপাতালের ভেতরেও যদি এমন কোনো অনৈতিক কাজ হয়ে থাকে, তবে সেটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।