খুলনা অফিস
খুলনার রূপসা উপজেলার আইচগাতি ইউনিয়নের দুর্জনীমহল এলাকায় ছেলে জয় ঢালীকে হত্যার এক মাস ২০ দিন পর গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বাবা আক্তার ঢালীকে (৬০)।
সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নিজ বাড়ির সামনে দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন আক্তার ঢালী। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এর আগে গত ১৫ আগস্ট রাতে একই এলাকায় আক্তার ঢালীর ছেলে জয় ঢালীকে (২৭) কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
অল্প সময়ের ব্যবধানে একই পরিবারের বাবা ও ছেলেকে হত্যার ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
তবে দুই হত্যাকাণ্ডের মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্র ও স্বজনেরা জানান, সোমবার সন্ধ্যায় আক্তার ঢালী বাড়ির সামনের রাস্তার পাশে একটি বেঞ্চে বসেছিলেন। এ সময় হঠাৎ গুলির শব্দ শোনা যায়।
পরিবারের সদস্যরা বাইরে এসে তাকে বেঞ্চের পাশে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে স্বজনেরা দ্রুত তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।
রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার জাহিদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দুর্বৃত্তদের গুলিতে আক্তার ঢালী গুলিবিদ্ধ হন। স্থানীয়রা তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
কারা এবং কী কারণে এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্মী মুরাদ জানান, আক্তার ঢালীর ডান পাশের কাঁধের গোড়ার দিকে গুলির আঘাত রয়েছে। পাশাপাশি শরীরে ছররা গুলির আঘাতও থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ১৫ আগস্ট রাত সাড়ে ৮টার দিকে রূপসার দুর্জনীমহলের শহীদের মোড় এলাকায় জয় ঢালীর ওপর হামলা চালায় চার থেকে পাঁচজনের একটি দল।
হেলমেট পরা দুর্বৃত্তরা মোটরসাইকেলে এসে তাকে কুপিয়ে জখম করে। এতে ঘটনাস্থলেই জয় ঢালীর মৃত্যু হয়। হামলার পর দুর্বৃত্তরা মোটরসাইকেলে করে দ্রুত পালিয়ে যায়।
জয় ঢালী হত্যার এক মাস ২০ দিন পর তার বাবা আক্তার ঢালীও একই এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। পুলিশ বলছে, তদন্তের পরই বিষয়টি স্পষ্ট হবে।
রাতে এই রিপোর্ট লেখার সময় আক্তার ঢালীর মরদেহের ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া চলছিল। হত্যায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।