স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় ছয় মাসের সাজা। কিন্তু ১৩ বছর বাংলাদেশের কারাগারে বন্দী জীবন কাটানো এক ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে।
বাচ্চুলা মাঝি (৫৩) নামে ওই ভারতীয় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী অবস্থায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ভোরে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তার মরদেহ যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। তবে, আইনি জটিলতার কারণে মরদেহটি তার দেশে ফেরত দেওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে প্রশাসন এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি।
লাশ ভারতে পাঠানোর জন্য ইতিমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনের সাথে যোগাযোগ শুরু হয়েছে।
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবিদ আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মৃত বাচ্চুলা মাঝি ভারতের উত্তর প্রদেশের চিতামারী জেলার মেজরগঞ্জ থানার নারথে কাকড়ারা গ্রামের বাবুল মাঝি ওরফে বকুল মাঝির ছেলে।
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে তিনি ‘ভারতীয় বন্দী নম্বর ০৭/১৮’ হিসেবে নিবন্ধিত ছিলেন।
কারা সূত্র জানায়, ২০১৩ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি রামগড়ছড়ি থানায় অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে ১৯৫২ সালের বাংলাদেশ কন্ট্রোল অব এন্ট্রি অ্যাক্টের ৪ ধারায় বাচ্চুলা মাঝির বিরুদ্ধে মামলা হয়। ওই বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি তাকে রাঙামাটি জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে আদালত তাকে মাত্র ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। কিন্তু সাজা শেষ হলেও আইনি প্রক্রিয়া ও নাগরিকত্ব জটিলতায় তাকে আর নিজ দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি। স্বদেশে প্রত্যাবসনের (পুশব্যাক) সুবিধার্থে ২০১৮ সালের ২০ নভেম্বর ফেনী জেলা কারাগারের মাধ্যমে তাকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। এরপর থেকে দীর্ঘ সময় তিনি এখানেই বন্দী ছিলেন।
কারা কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, ‘সিজোফ্রেনিয়া’ রোগে আক্রান্ত বাচ্চুলা মাঝি দীর্ঘদিন কারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
শুক্রবার ভোরে হঠাৎ করে তিনি বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন এবং অচেতন হয়ে পড়েন। কারা হাসপাতালের সহকারী সার্জনের জরুরি নির্দেশনায় ভোর ৪টা ৩৯ মিনিটে তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
জরুরি বিভাগের চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ভোর ৪টা ৪৫ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ইনচার্জ ডা. বিচিত্র মল্লিক জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই ওই ভারতীয় বন্দীর মৃত্যু হয়।
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবিদ আহমেদ জানান, মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য বর্তমানে হাসপাতালের মর্গে রাখা আছে। সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া ও আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে লাশ ভারতে পাঠানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।