চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় নৈশ টহল চলাকালে পুলিশের থামার সংকেত অমান্য করে মোটরসাইকেল দিয়ে এক পুলিশ সদস্যকে ধাক্কা দিয়ে গুরুতর আহত করার ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামি মারুফ হোসেনকে (২৬) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দিবাগত রাত ২টার দিকে দর্শনা থানার উজলপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মারুফ দর্শনা থানার জয়নগর কাস্টমপাড়া গ্রামের আব্দুস সামাদ ওরফে জাম্বুর ছেলে।
দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মেসবাহ উদ্দীন জানান, গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাত পৌনে ১২টার দিকে দামুড়হুদা উপজেলার লোকনাথপুর গ্রামে ফায়ার সার্ভিসের উত্তর পাশে ছোট পোল এলাকায় নৈশ টহল দিচ্ছিলেন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামসুর রহমানসহ পুলিশের একটি দল।
এ সময় লোকনাথপুর থেকে দর্শনাগামী একটি মোটরসাইকেলকে দ্রুতগতিতে আসতে দেখে থামার সংকেত দেন পুলিশ সদস্যরা। কিন্তু চালক সংকেত অমান্য করে পালানোর চেষ্টা করেন।
একপর্যায়ে তিনি কর্তব্যরত কনস্টেবল আলমগীর হোসেনকে মোটরসাইকেল দিয়ে সজোরে ধাক্কা দিয়ে ঘটনাস্থলে মোটরসাইকেলটি ফেলে পালিয়ে যান।
এতে আলমগীর হোসেনের মাথা, চোখ, পিঠ ও পায়ে গুরুতর আঘাত লাগে। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাল-কালো রঙের একটি হিরো গ্ল্যামার মোটরসাইকেল জব্দ করে। এ ঘটনায় শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দামুড়হুদা মডেল থানায় সরকারি কাজে বাধা, পুলিশ সদস্যকে গুরুতর জখম ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করা হয়।
পুলিশ জানায়, চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মেহেদী শাহরিয়ারের নির্দেশনায় এবং দামুড়হুদা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নুরুল্লাহর তত্ত্বাবধানে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মাহাবুল হকের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে মারুফকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ওসি শেখ মেসবাহ উদ্দীন আরও জানান, গ্রেপ্তার মারুফের বিরুদ্ধে দর্শনা ও ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে আরও নয়টি মামলার তথ্য রয়েছে। তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।