দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পবিত্র কুরআন শরিফ নিয়ে আপত্তিকর ও অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগে শামীম (৫২) নামে এক ব্যক্তি সংঘবদ্ধ মারপিটে নিহত হয়েছেন।
শনিবার দুপুরে উপজেলার ফিলিপনগর এলাকায় অবস্থিত তার নিজস্ব দরবার শরিফে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
হামলায় শামীমের আরও দুই অনুসারী গুরুতর আহত হন।
নিহত শামীম ফিলিপনগর এলাকার সামসুল ইসলামের ছেলে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি নিজেকে ‘কালান্দার বাবা জাহাঙ্গীর সুরেশ্বরীর’ অনুসারী হিসেবে পরিচয় দিতেন।
অভিযোগ ওঠে, সম্প্রতি শামীম তার দরবারে অনুসারীদের উদ্দেশে পবিত্র কুরআন শরিফ নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। তার বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় ‘ধর্মপ্রাণ’ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার বেলা একটার দিকে শত শত বিক্ষুব্ধ লোকজন ফিলিপনগরে অবস্থিত শামীমের দরবার শরিফ ঘেরাও করে। একপর্যায়ে তারা দরবারে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও একাধিক কক্ষে অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় দরবারের ভেতরে থাকা শামীম ও তার দুই অনুসারী বেধড়ক মারপিটের শিকার হন।
বিকেল তিনটার দিকে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস গুরুতর আহত অবস্থায় শামীমসহ তিনজনকে উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেলা তিনটা ২০ মিনিটের দিকে তার মৃত্যু হয়। আহত অপর দু’জন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ৫-৬ বছর ধরে শামীম ইসলামের নাম ব্যবহার করে নানা ধরনের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন। এর আগেও গান-বাজনা করে লাশ দাফন করাসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি সমালোচনার জন্ম দেন।
শামীমের বড় ভাই ফজলুর রহমান জানান, শামীম বেশ কয়েক বছর ধরে ওই দরবার পরিচালনা করে আসছেন।
বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ দরবার শরিফ এলাকা ঘিরে রাখে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দৌলতপুর থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে কাজ করছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে, যেন নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে এবং এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।