মেহেরপুর প্রতিনিধি
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার জোড়পুকুরিয়া গ্রামে এবার বিএনপির ১৮ নেতাকর্মীকে হত্যার হুমকি দিয়ে চিরকুট ও দুটি হাতবোমা রেখে গেছে দুর্বৃত্তরা।
রোববার (১৭ মে) দিবাগত রাতের কোনো একসময় জোড়পুকুরিয়া গ্রামের মধ্যপাড়া এলাকার বাবলুর বাড়ির সামনে, তিন রাস্তার মোড়ে লাল স্কসটেপ দিয়ে মোড়ানো বোমা ও চিরকুট দুটি কে বা কারা রেখে যায়।
স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার দাস ও তদন্ত অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন ফোর্সসহ ঘটনাস্থল থেকে বোমা দুটি ও চিরকুট উদ্ধার করেন। পরে নিরাপত্তার স্বার্থে বোমা দুটি পানিভর্তি বালতিতে রাখা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফেলে যাওয়া চিরকুটে অশালীন ভাষা ব্যবহার করে হুমকি দিয়ে লেখা হয়েছে, ‘জয় বাংলা, ঘণ্টা সময় পাইলে তোদের বিএনপিদের যে কি হাল করব... লাবলুর মতো তোদের জবাই করব। পুলিশ আমাদের হয়ে কাজ করবে, আমরা টাকা দিই ওদের।’

আরেকটি চিরকুটে ওই গ্রামের ১৮ জন বিএনপি নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে লেখা হয়েছে, ‘শেখ হাসিনা আসবে ৬ মাস সময়, জয় বাংলা, জোড়পুকুরের বিএনপিদের কি হাল যে করব... আমরা গ্রামে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াত সবাই এক, দালালদের বাজারে পাইলে খবর আছে।’
চিরকুটে নাম থাকা জোড়পুকুরিয়া গ্রামের বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে রয়েছেন, জেটিএস মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম হেলু মাস্টার, খলিল, মুজাম, হাপি, বেলু, মহিবুল ইসলাম, জিয়া, সেন্টু, মিঠুন, জিকো, সোহেল, সাহেব আলী, ইব্রাহিম, বাপ্পী, ইউসুফ, রফিকুল, জয়নাল ও সাজ্জাদ হোসেন।
বোমা ও হত্যার হুমকিসম্বলিত চিরকুট উদ্ধারের পর থেকে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও গ্রামবাসীর মাঝে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এদিকে এই স্পর্শকাতর ঘটনায় গাংনী থানার ওসি উত্তম কুমার দাস উদ্ধার অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করলেও ক্যামেরার সামনে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। ঘটনার তদন্ত ও জড়িতদের শনাক্তে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে থানা সূত্রে জানা গেছে।
এর আগে জোড়পুকুরিয়া গ্রাম বিএনপির সভাপতি লাবলু হোসেনকে প্রকাশ্যে দিবালোকে রামদা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছিল দূর্বৃত্তরা।