খুলনা অফিস
খুলনা খাদ্য পরিবহন (সড়ক পথ) ঠিকাদার সমিতির অফিস দখল নিতে গিয়ে শেখ হারুনুর রশিদ (৫৩) নামে এক ঠিকাদার গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
মঙ্গলবার দুপুর একটার দিকে নগরীর খানজাহান আলী রোডের আল হেরা জামে মসজিদের তৃতীয় তলায় অফিস ভবনে এ ঘটনা ঘটে।
খুলনা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
আহত ঠিকাদার খালিশপুর থানার নয়াবাটি এলাকার বাসিন্দা শেখ আব্দুর রউফের ছেলে। তিনি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
সমিতির বর্তমান এডহক কমিটির আহ্বায়ক এসএম আজিজুর রহমান স্বপন বলেন, ‘এলাকার এক বন্ধু মারা গেছে, আমি সেখানে ছিলাম। হঠাৎ অফিস স্টাফ শাহাদাত হোসেন ফোন করে জানায়, সাবেক কমিটির সাধারণ সম্পাদক কেএম রেজাউল আলম ও হারুনুর রশিদসহ কয়েকজন অফিস দখল করতে গেছে। তারা সিসি ক্যামেরা বন্ধ করে দেয়। ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি, তারা আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের চেয়ার দখল করে বসে আছে। তাদের বলি, আপনাদের কোনো দাবি দাওয়া থাকলে আমাকে লিখিত দেন। এ সময় সেখানে উপস্থিত সাধারণ সদস্যরা বলেন যে, এটা কি গরুর হাট যে দখল করছেন? এরপর বহিরাগতরা আমাদের সদস্যদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে হারুন গুলিবিদ্ধ হয়।’
তিনি বলেন, ‘তাদের উদ্দেশ্য ছিল অফিস দখল করা। আমার ওপর তাদের আক্রমণের পরিকল্পনা ছিল। তারা পরিকল্পিতভাবে হামলা করেছে। কে গুলি করছে জানি না। তবে, সাবেক কমিটির সহ সভাপতি হারুনুর রশিদের গায়ে গুলি লেগেছে। তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।’
এদিকে, নিজেকে খাদ্য পরিবহন ঠিকাদার সমিতি নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক দাবি করে খান মো. রেজাউল আলম বলেন, ‘গুলিবিদ্ধ হারুনুর রশিদ নির্বাচিত সহ-সভাপতি। জামায়াত নেতা এসএম আজিজুর রহমান স্বপন নিজেকে আহ্বায়ক দাবি করে মব সৃষ্টি করে অফিস দখলে নেয়। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে আমরা হাইকোর্টে মামলা করি, রায় আমাদের পক্ষে।’
তিনি বলেন, ‘সেই মামলার আদেশে আজ অফিসে গিয়ে আসন গ্রহণ করি। তখন তারা এসে আমাদের আসন ছেড়ে দিতে বলে। তারা কোর্ট বা কোনো কিছু মানে না। ঠিকাদার স্বপন কাকে যেন ফোন করে বলে গোলাগুলি করতে। ওরা আমাকে উদ্দেশ করে শর্টগান দিয়ে গুলি ছোঁড়ে। আমার ছেলের বাধায় গুলিটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে হারুনুর রশিদের পায়ে বিদ্ধ হয়।’
তিনি বলেন, ঘটনার সময় স্বপন, ওয়াহিদুল ইসলাম, তকিবর রহমান ও হাফিজসহ অনেকেই উপস্থিত ছিল।
জানতে চাইলে খুলনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, নিজেদের মধ্যে কথাকাটাকাটির জেরে দুই গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে প্রতিপক্ষ হারুনুর রশিদকে গুলি করে। কারা গুলির ঘটনা ঘটিয়েছে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।