স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
আদালতের বারান্দায় মামলার বাদীকে মারপিট করায় একই মামলার পাঁচজনকে দুইদিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও তিন নারীসহ চারজনকে একশ’ টাকা করে জরিমানার আদেশ দিয়েছেন যশোরের একটি আদালত।
মঙ্গলবার এ অভিযোগের তদন্ত করে সত্যতা পাওয়ায় তাৎক্ষণিক বিচারক কার্য শেষে এ আদেশ দিয়েছেন সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সঞ্জয় পাল।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোর্ট পরিদর্শক মো. এমদাদুল হক।
সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, বাঘারপাড়ার দক্ষিণ শ্রীরামপুর গ্রামের মৃত আহম্মদ তরফদারের ছেলে মশিউর রহমান, আব্দুল ওহাব, হাবিবুল্লাহ, মৃত বদিয়ার মোল্লার ছেলে আব্দুর রাজ্জাক, আলম মোল্যা, আজিজ মোল্লা, নুর আলী শিকদারের স্ত্রী বেগম, মেয়ে নুরজাহান ও জামশেদ শেখের স্ত্রীর তহুরুন নেছা।
অভিযোগে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দক্ষিণ শ্রীরামপুর গ্রামের মতিয়ার রহমানের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ ঘটনায় মতিয়ার রহমান ৯ সেপ্টেম্বর ১৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে পিবিআই ২০২৫ সালের ১৩ জানুয়ারি ১৩ জনকে অভিযুক্ত করে আদলতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। পরবর্তীতে মামলাটি বিচারের জন্য সিনিয়র জুডিসিয়াল দ্বিতীয় আদালতে বদলি করা হয়।
মঙ্গলবার মামলার চার্জ গঠনের দিন ছিল। এ দিন মামলার সব আসামি ও বাদী মতিয়ার রহমান আদালতে উপস্থিত হন। মামলার চার্জ শুনানিকালে আসামিরা মামলার বাদীকে আদালতের তৃতীয়তলার সিঁড়ির সামনে ধরে মারপিট করে। মতিয়ার রহমান আসামিদের হাত থেকে পালিয়ে বিচারকের কাছে অভিযোগ করেন। এরমধ্যে মামলার নয়জনকে ধরে জনগণ আদালতে সোপর্দ করে।
বিচারক এ অভিযোগের তদন্ত করে তাৎক্ষণিক প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আদেশ দেন কোর্ট পুলিশ পরিদর্শককে।
তিনি এ অভিযোগের তদন্ত করে আটক নয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন। বিচারক সাক্ষীদের বক্তব্য পর্যালোচনা শেষে পাঁচজনকে দুইদিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও বৃদ্ধ মশিউর রহমানসহ তিন নারীকে একশ’ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে দুই দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। বৃদ্ধ মশিউর রহমানসহ তিন নারী জরিমানার টাকা দিয়ে মুক্তি পেয়েছেন। অপর পাঁচ আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।