যশোর, বাংলাদেশ || সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

রাস্তার ধারে দুই বছরের শিশু, কোলে তুলে নিলেন ইউএনও

বাগেরহাট প্রতিনিধি

প্রকাশ : শনিবার, ২২ আগস্ট,২০২৬, ০৩:৩৮ পিএম
রাস্তার ধারে দুই বছরের শিশু, কোলে তুলে নিলেন ইউএনও

দুই বছরের একটি শিশুর মায়ের কোলই হওয়ার কথা পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়। কিন্তু সেই বয়সেই সড়কের পাশ থেকে তাকে একা উদ্ধার করা হলো। জন্মদাত্রী তাকে একা ফেলে গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শেষ পর্যন্ত স্থানীয়দের উদ্যোগে শিশুটিকে উদ্ধার করে নেওয়া হয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বাসভবনে। আর সেখানেই প্রশাসনিক দায়িত্বের গণ্ডি পেরিয়ে এক অনন্য মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন মোরেলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাবিবুল্লাহ। তিনি নিজের কোলে তুলে নেন অসহায় শিশুটিকে। শিশুটির পরনে প্রয়োজনীয় পোশাক না থাকায় নিজের বাসা থেকে জামা-কাপড় এনে পরিয়ে দেন। এরপর তার জন্য খাবারেরও ব্যবস্থা করেন তিনি।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার বারইখালী ইউনিয়নের জেলেপাড়ার একটি ইটভাটার সামনের সড়কে শিশুটিকে পাওয়া যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যার দিকে সড়কের পাশে একা একটি শিশুকে কাঁদতে দেখতে পান স্থানীয় কয়েকজন। কাছে গিয়ে তারা বুঝতে পারেন, শিশুটির পাশে কোনো অভিভাবক নেই। দীর্ঘ সময় ধরে শিশুটির কান্না চলতে থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। পরে তারা শিশুটিকে উদ্ধার করে তার দাদির কাছে নিয়ে যান।
কিন্তু সেখানে গিয়েও মেলেনি আশ্রয়।

শিশুটির দাদিও তার দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানান। ফলে শিশুটিকে আবারও সড়কের পাশে রেখে যাওয়ার মতো নির্মম পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিষয়টি দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ, বিস্ময় ও গভীর উদ্বেগ দেখা দেয়। একপর্যায়ে তারা শিশুটিকে নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনে উপস্থিত হন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শিশুটির বাবা মো. পলাশ এবং মা মোসা. মিতু আক্তার। তারা বারইখালী ইউনিয়নের দুই নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। স্থানীয় সূত্রের দাবি, প্রায় তিন মাস আগে তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটে।

বিচ্ছেদের পর শিশুটির দায়িত্ব কার কাছে থাকবে- এ নিয়ে পারিবারিকভাবে জটিলতা তৈরি হয়ে থাকতে পারে বলে স্থানীয়দের ধারণা। তবে মাত্র দুই বছরের একটি শিশুর ওপর সেই পারিবারিক টানাপড়েনের নির্মম প্রভাব যে কতটা ভয়াবহ হতে পারে, শুক্রবারের ঘটনাটি তারই বাস্তব প্রতিচ্ছবি।

স্থানীয়দের ভাষ্য, শুক্রবার শিশুটির মা মিতু আক্তার তাকে ইটভাটার সামনের সড়কের পাশে রেখে ঢাকার উদ্দেশে চলে যান। কিছুক্ষণ পর শিশুটিকে একা কাঁদতে দেখে স্থানীয়রা এগিয়ে আসেন।

ইউএনওর কোলে ঠাঁই পেল শিশুটি

স্থানীয়রা শিশুটিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনে নিয়ে যান। ঘটনা শোনার পর তিনি শিশুটির বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এ সময় শিশুটির বাবা মো. পলাশ জানান, তিনি বর্তমানে মোরেলগঞ্জের বাইরে অবস্থান করছেন। পরে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আগামী তিন দিনের মধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সন্তানকে নিজের দায়িত্বে নেওয়ার কথা জানান তিনি।

কিন্তু আইনগত প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত শিশুটির নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় যত্নের বিষয়টি কী হবে- এই প্রশ্নটি গুরুত্ব দিয়ে দেখেন ইউএনও। অসহায় শিশুটির দিকে তাকিয়ে তিনি অপেক্ষা করেননি। নিজের কোলে তুলে নেন শিশুটিকে।
শিশুটির পরনে প্রয়োজনীয় পোশাক না থাকায় ইউএনও নিজের বাসা থেকে জামা-কাপড় এনে তাকে পরিয়ে দেন। এরপর শিশুটির জন্য খাবারেরও ব্যবস্থা করেন।

সাময়িক আশ্রয়ের ব্যবস্থাও করলেন ইউএনও

শিশুটির সাময়িক নিরাপত্তা ও দেখভালের বিষয়টি নিশ্চিত করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্থানীয়ভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। সবার উপস্থিতিতে শিশুটির ফুফু রেশমা খাতুনের কাছে তিন দিনের ভরণ-পোষণের জন্য আর্থিক সহায়তা দিয়ে সাময়িকভাবে তাকে হস্তান্তর করা হয়।

সোমবার ইউএনও কার্যালয়ে বাবাকে তলব

ঘটনার পর শিশুটির বাবা মো. পলাশকে আগামী সোমবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে জরুরি ভিত্তিতে উপস্থিত হওয়ার জন্য তলব করা হয়েছে।
শিশুটির ভবিষ্যৎ অভিভাবকত্ব, নিরাপত্তা এবং আইনগত বিষয়গুলো বিবেচনা করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

শিশুটির ভবিষ্যৎ নিয়েই এখন সবার ভাবনা

তবে সাময়িকভাবে শিশুটির আশ্রয়ের ব্যবস্থা হলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যাচ্ছে না। শিশুটির প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা, স্থায়ী অভিভাবকত্ব, ভালোবাসাপূর্ণ পারিবারিক পরিবেশ, শিক্ষা ও সুরক্ষা।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ শিশুটির সর্বোচ্চ স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। শিশুটির ভবিষ্যৎ যেন আবার কোনো অনিশ্চয়তা বা অবহেলার মধ্যে না পড়ে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় দাবি।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)