কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি
যশোরের কেশবপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সাগরদাঁড়ী এমএম ইনস্টিটিউশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের জানালার গ্রিল ও আসবাপত্র বিক্রি করে প্রায় লক্ষাধিক টাকা আত্মসাতের করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় লোকজনের পক্ষে কেশবপুরের ইউএনওকে এ সংক্রান্তে একটি অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তাদের অভিযোগ, সরকারি মালামাল উন্মুক্ত টেন্ডার বা দরপত্র আহবানের মাধ্যমে বিক্রির বিধান থাকলেও প্রধান শিক্ষক নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা করেনি।
অবশ্য, ইনস্টিটিউশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গৌতম কুমার দত্ত তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, রেজুলেশন করে ম্যানেজিং কমিটির সম্মতিতেই মালামাল ওপেন টেন্ডারে বিক্রি করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে দেওয়া অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সাগরদাঁড়ী এমএম ইনস্টিটিউশনের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে মেহেরুন্নেসা মেরি দায়িত্ব নেওয়ার পর তাকে না জানিয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গৌতম কুমার দত্ত, সহকারি শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান বুলু, গত ২০ আগস্ট, ১১টি জানালার (পুরাতন) গ্রিল, বেঞ্চ, চেয়ার-টেবিল এবং বেশ কিছু লোহার পাইপসহ তামার তার বিক্রি করেন। যার মূল্য প্রায় দুই লাখ টাকা।
এ ব্যাপারে সাংবাদিকরা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, প্রতিষ্ঠানের জানালার পুরাতন গ্রিল, বেঞ্চসহ বিভিন্ন মালামাল দুই লটে মোট এক লাখ দুই হাজার টাকা বিক্রি করেছেন। তবে, এই টাকা প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়েছে কি-না জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়টি এড়িয়ে যান।
স্থানীয়রা জানায়, মালামাল বিক্রিকালে প্রতিষ্ঠানের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি মেহেরুন্নেসা মেরি উপস্থিত ছিলেন না। সহকারী শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান বুলুর যোগসাজসে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ওইসব মালামাল গোপনে বিক্রি করে দিয়েছেন।
ইনস্টিটিউশনের একাধিক অভিভাবক জানান, অ্যাডহক কমিটির সদস্যদের কাজ হলো- শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ও শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা, প্রশাসনিক নিয়ম পাস কাটিয়ে মালামাল বিক্রি না।
বিদ্যালয়ের ভাড়া দেওয়া ৭৪টি বাণিজ্যিক দোকান মালিকদের অভিযোগ, তাদের দোকানের জামানতের পরিমাণ একলাফে দ্বিগুণ করতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ চাপ সৃষ্টি করছেন। পূর্বনির্ধারিত চুক্তি বহাল থাকা সত্ত্বেও পূর্ব নোটিস বা আলোচনা ছাড়াই বাড়তি অর্থ দাবি করা হচ্ছে, যা তাদের ব্যবসা পরিচালনা কঠিন করে তুলবে।
ব্যবসায়ী সহিদুল ইসলাম বলেন, স্কুল পরিচালনা কমিটির সাথে চুক্তি মোতাবেক দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করে আসছি। আমাদের সাথে চুক্তি বহাল থাকা সত্ত্বেও বর্তমান অ্যাডহক কমিটির সদস্যরা দোকানের জামানত দ্বিগুণ করতে তারা চাপ দিচ্ছেন।
এ বিষয়ে ইনস্টিটিউশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গৌতম কুমার দত্ত বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানের পুরাতন জানালার গ্রিল, বেঞ্চ, চেয়ার-টেবিলসহ লোহার পাইপ দুই লটে বিক্রি করা হয়েছে। যা প্রতিষ্ঠানের অ্যাডহক কমিটির অনুমতি নিয়েই করা হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানের ভাড়া দেওয়া ঘরের মধ্যে ৩০টিতে প্রকৃত মালিকরা ব্যবসা করেন না। তারা বেশি টাকায় অন্যের কাছে ভাড়া দিয়েছেন। ওইসব দোকানিসহ সকলকে আমরা নোটিস দিয়েছি। এসব দোকান সংস্কার করতে জামানত বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. ফিরোজ আহম্মেদ বলেন, প্রতিষ্ঠানের কোনো মালামাল বিক্রির ক্ষেত্রে অবশ্যই পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকাশ্যে টেন্ডার আহবানসহ এলাকায় প্রচার মাইক বের করতে হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমি উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে কেশবপুরে সবেমাত্র যোগদান করেছি। তবে, ইনস্টিটিউশনের পুরাতন মালামাল বিক্রিতে কোনো অনিয়ম হলে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’