আজমল হোসেন জুয়েল
, তালা (সাতক্ষীরা)
টাকার বিনিময়ে ভুয়া তথ্য ও কাগজপত্র ব্যবহার করে অন্য উপজেলার বাসিন্দাকে জন্মসনদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সাতক্ষীরার তালা উপজেলার সরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব শহিদুল ইসলাম ও প্যানেল চেয়ারম্যান শেখ মাসুদ রানার বিরুদ্ধে।
এই জন্মসনদ দিয়ে উপজেলা নির্বাচন অফিসে জাতীয় পরিচয়পত্র করতে গিয়ে জালিয়াতির বিষয়টি প্রকাশ পায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার বাঁশদহ এলাকার বাসিন্দা আপন শেখ নামে এক যুবক জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরির উদ্দেশ্যে তালা উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে আবেদন করেন। পরবর্তীতে সার্ভার ও সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাইকালে দেখা যায়, তার নামে দেশের তিনটি ভিন্ন স্থান থেকে জন্মসনদ ইস্যু করা হয়েছে। প্রথমে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বাঁশদহ ইউনিয়ন পরিষদ থেকে, এরপর পর্যায়ক্রমে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এবং তালা উপজেলার সরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ থেকে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আপন নামে ওই যুবক আদৌ সরুলিয়া ইউনিয়নের স্থায়ী বা অস্থায়ী বাসিন্দা নন। কেবল অর্থের বিনিময়ে স্থানীয় ইউপি সচিব শহিদুল ইসলাম ও প্যানেল চেয়ারম্যান শেখ মাসুদ রানার যোগসাজসে ১৫ হাজার টাকার চুক্তিতে সরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ থেকে এই জন্মসনদটি বাগিয়ে নেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্যানেল চেয়ারম্যান শেখ মাসুদ রানা ইউপির দায়িত্বে আসার পর থেকেই প্রভাবশালী একটি চক্রের সমন্বয়ে ইউনিয়ন পরিষদকে ব্যবহার করে ভুয়া কাগজপত্র ও অসাধু উপায়ে অবৈধ জন্মসনদ বাণিজ্য চালিয়ে আসছে। এতে প্রকৃত নাগরিকরা যেমন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন, তেমনি জাতীয় পরিচয়পত্রের সার্বিক নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়ছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউপি সচিব শহিদুল ইসলাম বলেন, চেয়ারম্যানের দেওয়া নাগরিক সনদের ভিত্তিতেই তার জন্মসনদ ইস্যু করা হয়েছে।
অভিযুক্ত ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান শেখ মাসুদ রানার কাছে একাধিকবার জানতে চাওয়া হলেও তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল আফরোজ স্বর্না বলছেন, এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা পেলে দোষীদের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।