কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি
বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ হামিদুর রহমানের ৫৫তম শাহাদতবার্ষিকী (মৃত্যুবার্ষিকী) যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ, জাতীয় গণফ্রন্টসহ বিভিন্ন প্রগতিশীল রাজনৈতিক সংগঠন ঝিনাইদহ বাস টার্মিনাল এলাকায় অবস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করে। এ সময় জেলা প্রশাসন ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পক্ষ থেকেও শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
একই দিন সকালে মহেশপুর উপজেলা প্রশাসন, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান সরকারি ডিগ্রি কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগে বীরশ্রেষ্ঠের শাহাদতবার্ষিকী পালন করা হয়। উপজেলার খালিশপুরে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্মৃতি জাদুঘর প্রাঙ্গণে তাঁর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করে উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ ও কলেজ কর্তৃপক্ষ।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আয়োজিত সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, ঝিনাইদহ বাস টার্মিনাল এলাকায় বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বর ও ভাস্কর্যটি এখনো ত্রুটিমুক্ত করে যথাযথভাবে পুনঃস্থাপন এবং নিরাপত্তা জোরদার করা হয়নি। তার নামে নির্মিত ভাস্কর্যটি গত কয়েক মাসে একাধিকবার অবমাননা ও ভাঙচুরের শিকার হয়েছে। এমনকি ভাস্কর্য অপসারণ ও ভাঙার কাজ শুরু হলে সংবাদ প্রকাশ ও নানা মহলের প্রতিবাদের মুখে তা স্থগিত করা হয়। পরবর্তীতে ভাস্কর্যের গলায় জুতার মালা ঝোলানোর মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনাও ঘটে। ভাস্কর্যে হামলা ও জুতার মালা পরিয়ে অবমাননার ঘটনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন বক্তারা।
প্রসঙ্গগত, ১৯৭১ সালের ২৮ অক্টোবর ভোরে মৌলভীবাজারের ধলই সীমান্ত ফাঁড়িতে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখযুদ্ধে অংশ নেন সিপাহি হামিদুর রহমান। সেদিনের যুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর সাথে জীবন বাজি রেখে হামিদুর রহমান শত্রুর অবস্থানের দিকে এগিয়ে যান এবং গ্রেনেড ছুড়ে মেশিনগান পোস্টটি ধ্বংস করেন। কিন্তু বিজয়ের সেই মুহূর্তেই শত্রুর গুলিতে শহীদ হন এই বীর যোদ্ধা। অসীম সাহসিকতা ও বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে দেওয়া হয় বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান 'বীরশ্রেষ্ঠ'।
শাহাদতের পর তাকে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আমবাসা গ্রামে সমাহিত করা হয়েছিলো। দীর্ঘ ৩৬ বছর পর ২০০৭ সালের ১০ ডিসেম্বর তার মরদেহ পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে ঢাকার মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে পুনঃদাফন করা হয়।