স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
জমি নিয়ে বিরোধের জেরে যশোর সদর উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়নের ওসমানপুর গ্রামের একটি পরিবারকে জোরপূর্বক বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করার অভিযোগ করা হচ্ছে। বর্তমানে ওই পরিবারের সদস্যরা বাড়ির পাশের একটি কলাবাগানে তাবু টাঙিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী সুজন কুমার শিকদার ও তার পরিবারের সদস্যরা। সংবাদ সম্মেলনে সুজনের বৃদ্ধ বাবা সুবল শিকদার, মা ইছামতি শিকদার ও স্ত্রী সুস্মিতা শিকদার উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সুজন কুমার শিকদার বলেন, তার বাবা সুবল শিকদার ২ দশমিক ২২ শতক জমি তার চাচা অচিন্ত্য শিকদারের কাছ থেকে মৌখিক এওয়াজ বদল (বিনিময়) করে নেন। পরবর্তীতে সেখানে ঘর নির্মাণ করে তারা পরিবার নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে বসবাস করে আসছিলেন। মোট তিন শতক জমিতে প্রথমে কাঁচা ঘর নির্মাণের পর প্রায় ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে চার কক্ষবিশিষ্ট একটি পাকা বাড়ি নির্মাণ করেন এবং পরিবারসহ সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস করছিলেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবে পরিচিত গোলাম মোস্তফা ওই জমি বিভিন্ন কৌশলে তার চাচার কাছ থেকে নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নেন। অথচ অন্য জমি বদল করেই চাচার কাছ থেকে ওই জমি নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তার চাচা অচিন্ত্য শিকদার গোপনে জমিটি গোলাম মোস্তফার কাছে বিক্রি করে দেন। এরপর গত ২২ এপ্রিল গোলাম মোস্তফার সহযোগী বিএনপি নেতা হিসেবে পরিচিত শহিদুল ইসলাম, মিঠু, বিল্লালসহ ২০/৩০ জন সন্ত্রাসী তাদের বাড়িতে গিয়ে জোরপূর্বক সবাইকে ঘর থেকে বের করে দেন। ওই সময় ঘরের জানালা ভাঙচুর এবং আসবাবপত্র রাস্তায় ফেলে প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি করা হয় বলেও দাবি করেন তিনি।
সুজন আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর প্রশাসনের সহযোগিতায় তারা আবার বাড়িতে উঠলেও বিষয়টির স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। গত ২২ জুন আবারও গোলাম মোস্তফা ও শহিদুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন তাদের বাড়িতে গিয়ে মারধর করে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করে। এ সময় স্থানীয় লোকজন বাধা দিতে গেলে তাদেরকেও নানা ধরনের হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সুজন কুমার শিকদার আক্ষেপ করে বলেন, ‘গত ২২ জুন থেকে আমি আমার বৃদ্ধ বাবা-মাকে নিয়ে খোলা আকাশের নিচে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছি। বাড়ির পাশে আরেক চাচার কলাবাগানে ঘরের জিনিসপত্র নিয়ে কোনোমতে তাবু টাঙিয়ে দিন পার করছি। পুলিশ প্রশাসন বা স্থানীয় কোনো জনপ্রতিনিধি আমাদের আশ্রয়ের কোনো ব্যবস্থা করেনি।’
তিনি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সরকার, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা এবং প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার, জানমালের নিরাপত্তা এবং নিজেদের বসতভিটায় শান্তিপূর্ণভাবে বসবাসের ব্যবস্থা করার জোর দাবি জানান।