স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
কথিত ‘জিন সাপের’ কামড়ে এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে যশোর সদরের দেয়াড়া ইউনিয়নের আমদাবাদ গ্রামের ঘোষপাড়া এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, ওই ঘটনার পর মাত্র একদিনের ব্যবধানে আরও ৬০ থেকে ৭০ জন একই ধরনের ‘সাপের কামড়ে’ আক্রান্ত হয়েছে বলে দাবি। তবে, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত চিকিৎসক বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে পলাশ ঘোষের ছেলে পাপন ঘোষ ঘুম থেকে উঠে পেটে ব্যথার কথা জানান। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একইসঙ্গে স্থানীয়ভাবে ঝাড়ফুঁকের ব্যবস্থাও করা হয়।
বলা হচ্ছে, এক ওঝা ওই পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছেন, তাকে ‘জিন সাপ’ কামড়েছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেদিন দুপুরে পাপনের মৃত্যু হয়।
পাপনের মরদেহ দাহ করার পর শনিবার সকাল থেকেই এলাকায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়দের দাবি, ঘোষপাড়ার ৬০ থেকে ৭০ জনকে একই ‘জিন সাপ’ কামড় দিয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে রয়েছেন রিয়া, অজয়, শেফালী, নিত্যানন্দ, সোমেন, প্রতীক, সিধু, চন্দনা, সোহাগী, মুন, সদানন্দ, মনিরসহ আরও অনেকে।
ঘটনার পর শিশুদের ঘরের বাইরে যেতে দিচ্ছে না অভিভাবকরা। পুরো এলাকায় ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
দেয়াড়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মাসুদ রানা বলেন, পাপনের মৃত্যুর পর এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ৬০ থেকে ৭০ জনকে সাপে কামড়ানোর কথা শোনা গেছে।
বিষয়টি নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে জরুরি সভা করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলে তিনি জানান।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক হুসাইন শাফায়েত বলেন, আইসিইউতে একজন রোগীর মৃত্যুর কথা শুনেছি। কী কারণে তার মৃত্যু হয়েছে, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে জানানো হবে।
তবে ‘জিন সাপ’ নামে কোনো প্রাণীর অস্তিত্ব বা এ ধরনের কামড়ের দাবির সত্যতা এখনো সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক, প্রশাসন বা বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত করেননি।