ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
পারিবারিক বিরোধের সালিশের নামে একটি হিন্দু পরিবারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবির অভিযোগে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আতিয়ার রহমানকে সাময়িক বহিষ্কার (সাসপেন্ড) করেছে জেলা যুবদল।
২ জুলাই যুবদলের দপ্তর সম্পাদক মশিউর রহমান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আতিয়ার রহমানকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলীয় সব পদ থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মধুহাটি ইউনিয়নের বাজারগোপালপুর গ্রামের এক নারীর বিয়ে হয় ফরিদপুর জেলার বোয়ালিয়া এলাকার পূর্ণয় সাহার সঙ্গে।
পূর্ণয় সাহার অভিযোগ, তার স্ত্রী কয়েক ভরি স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান। স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনতে স্থানীয় বিভিন্ন ব্যক্তির সহযোগিতা চাইলে সেই সুযোগে যুবদল নেতা আতিয়ার রহমান সালিশের মাধ্যমে স্ত্রী ও স্বর্ণালঙ্কার ফিরিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন।
সম্প্রতি পূর্ণয় সাহা ও আতিয়ার রহমানের একটি মোবাইল ফোনালাপের অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। অডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর জেলা যুবদল সাংগঠনিক ব্যবস্থা হিসেবে আতিয়ার রহমানকে সাময়িক বহিষ্কার করে।
পূর্ণয় সাহা বলেন, 'প্রথমে আমি তাকে দুই হাজার টাকা দিয়েছিলাম। পরে জানতে পারি, তিনি এলাকায় সালিশের নামে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে এভাবে টাকা আদায় করেন। আমি পাঁচ লাখ টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তিনি এখনও আমাকে মোবাইলে হুমকি দিচ্ছেন।'
অভিযোগের বিষয়ে আতিয়ার রহমানের বক্তব্য জানতে তার মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও পাওয়া যায়নি।
জেলা যুবদলের সভাপতি আহসান হাবিব (রনক) অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নারী সংক্রান্ত একটি পারিবারিক বিরোধের সালিশকে কেন্দ্র করে একটি হিন্দু পরিবারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবির অভিযোগ উঠেছে আতিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে।
দলীয় শৃঙ্খলাপরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। অভিযোগটি তদন্তাধীন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।