বাগেরহাট প্রতিনিধি
চারদিকে থইথই পানি। কোথাও হাঁটু, কোথাও কোমরসমান জল। সেই পানির মাঝখানে বাঁশের খুঁটি ও কাঠের পাটাতনের ওপর কোনো রকমে দাঁড়িয়ে আছে একটি জরাজীর্ণ বসতঘর।
স্যাঁতসেঁতে মেঝেজুড়ে কিলবিল করছে কেঁচো ও নানা পোকামাকড়, মাঝেমধ্যে ঘরে ঢুকে পড়ে সাপ-ব্যাঙ। এমন পরিবেশে দিন পার করছেন বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার সন্তোষপুর ইউনিয়নের সাবেক মহিলা সদস্য দীপ্তি মজুমদার (৬০)।
দীপ্তি মজুমদার বলেন, ‘২০১২ সালে স্বামী ক্ষিরোদচন্দ্র মজুমদারের মৃত্যুর পর নিঃস্ব হয়ে পড়ি। স্বামীর রেখে যাওয়া সম্পত্তির ন্যায্য অংশও পাইনি। পরের বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করে একমাত্র মেয়ে স্নিগ্ধাকে লেখাপড়া করাই, ২০১৩ সালে বিয়ে দিয়েছি।’
২০১৬ সালে এলাকাবাসীর অনুরোধে সন্তোষপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে নির্বাচন করে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন। টানা পাঁচ বছর জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করলেও নিজের জন্য কোনো সুযোগ-সুবিধা নেননি। মানুষের সমস্যা সমাধান, সেবা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন। অথচ আজ তাকে মানবেতর দিন কাটাতে হচ্ছে।
দীপ্তি মজুমদারের অভিযোগ, প্রভাবশালীরা বাড়ির চারপাশ থেকে অবাধে বালু উত্তোলন করায় জমি নিচু হয়ে গেছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই বসতঘর ও রান্নাঘর পানিতে তলিয়ে যায়। রান্নাঘরটি ব্যবহার অনুপযোগী। একই ঘরে রান্না, খাওয়া ও বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন মানুষের পাশে থাকা একজন সাবেক জনপ্রতিনিধির এমন অসহায় জীবনযাপন অত্যন্ত বেদনাদায়ক।
এ বিষয়ে চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা আক্তার বলেন, সন্তোষপুর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে ভাঙা রাস্তা পরিদর্শনে গিয়ে দীপ্তি মজুমদারের সঙ্গে কথা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের সচিবকে পাইপ বসিয়ে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছি।