সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
আইন আদালতের তোয়াক্কা না করে ‘মামলাবাজ’ নারী কর্তৃক সাতক্ষীরার শ্যামনগরে অবৈধভাবে অন্যের সম্পত্তি দখল চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
মঙ্গলবার সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এ অভিযোগ করেন শ্যামনগরের বাদঘাটা গ্রামের শাহাদাৎ হোসেনের মেয়ে সিরাতুননেছা ফাল্গুনী।
তিনি বলেন, ‘আমি একজন সরকারি প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক। চাকরি এবং বৈবাহিক সূত্রে যশোরে বসবাস করে আসছি। সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বাদঘাটা মৌজায় আমার পৈতৃকসূত্রে প্রাপ্ত এবং ক্রয়কৃত মোট দশ শতক জমি রয়েছে। জে এল নং-২৭, দাগ ৭৩২, ৭৩০, ৭৩১ এস এ খতিয়ান ২৪৪। জমি ক্রয়ের পর মাটি তুলে ভিটা করি এবং গাছগাছালি রোপণ করে দীর্ঘ চৌদ্দ বছর ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগ দখল করে আসছি। কিন্তু গত ২২ জানুয়ারি গভীর রাতে স্থানীয় একটি কুচক্রী মহলের ইন্ধনে মামলাবাজ জোবেদা বেগমসহ তার সহযোগীরা দখলের চেষ্টাকালে এলাকাবাসী রুখে দেয়। চাকরির সুবাদে বাড়িতে না থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়েই তারা সম্পত্তি অবৈধভাবে দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে।’
পরবর্তীকালে শ্যামনগরে উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সোলেমান সাহেব এবং পৌর বিএনপির আহ্বায়ক সাবেক চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী বাবুর সালিশে বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় প্রতিপক্ষ জোবেদা বেগমকে কোনও প্রকার ঝামেলা না করার মৌখিক নির্দেশ দেন। এরপর প্রতিপক্ষ জোবেদা বেগম আদালতে ১৪৫ ধারায় অভিযোগ করেন। শুনানিশেষে মহামান্য আদালত স্ব স্ব অবস্থানে থাকার নির্দেশনা দেন। তারপর থেকে মামলাবাজ জোবেদা বেগম আবারও জায়গা দখলের পাঁয়তারা চালাচ্ছে।
তিনি জানান, এ বিষয়ে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে লিখিতভাবে জানিয়েছি। শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আলহাজ মাস্টার আবদুল ওয়াহেদকে মৌখিকভাবে অবহিত করা হয়েছে।
‘স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনসহ রাজনৈতিক নেতারা কাগজপত্র পর্যালোচনা করে আমার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। কিন্তু ওই নারী আইন আদালত এবং কোনো রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে মূল্যায়ন না করে আমাকে হয়রানি করে যাচ্ছে,’ বলেন তিনি।