কৃষি কর্মকর্তার উপস্থিতিতে বিতরণ
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায় এক বিএনপি নেতার বাড়ি থেকে ৪৪ জন কৃষকের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি প্রণোদনার সার ও ধানবীজ উদ্ধার হয়েছে। পরে সেগুলো কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করেছে কৃষি বিভাগ। মঙ্গলবার সকালে উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ মন্ডল মির্জাপুর ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি।
অভিযোগ উঠেছে, তিনি কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত আট বস্তা (প্রতি বস্তা ৫০ কেজি) সার এবং ২২ বস্তা (প্রতি বস্তায় দশ কেজি) ধানবীজ উপজেলা কৃষি অফিস থেকে এনে নিজের বাড়িতে মজুত করে রাখেন। পরে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগের ভিত্তিতে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রকৃত কৃষকদের মধ্যে সেগুলো বিতরণ করেন।
স্থানীয়রা জানান, সরকারি বরাদ্দের সার ও বীজ বিতরণ না করে বাড়িতে রাখা হয়েছে এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী আব্দুল্লাহ মন্ডলের বাড়িতে যান। সেখানে সার ও বীজ মজুত দেখতে পেয়ে তারা ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে খবর দেন। পরে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে তালিকা অনুযায়ী কৃষকদের মধ্যে সার ও ধানবীজ বিতরণ করেন।
একই ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফরিদ মালিথা বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা সভাপতির বাড়িতে গিয়ে সরকারি সার ও বীজ মজুত অবস্থায় দেখতে পাই। পরে কৃষি কর্মকর্তাকে জানানো হলে তিনি এসে সেগুলো কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করেন। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছি।’
উপজেলা কৃষক দলের সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেনের দাবি, আব্দুল্লাহ মন্ডলের বিরুদ্ধে এর আগেও সরকারি বিভিন্ন বরাদ্দের উপকরণ নিজের বাড়িতে এনে রাখার অভিযোগ রয়েছে। কিছু বিতরণ করে বাকিগুলো বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে ওই নেতার বিরুদ্ধে। ঈদুল ফিতরের আগে শাড়ি বিতরণ নিয়েও তার বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ উঠেছিল।

সার পরিবহনকারী নছিমনচালক জাহিদ হোসেন বলেন, ‘সোমবার আমাকে শৈলকুপা উপজেলা কৃষি অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে লিটন নামে এক ব্যক্তি একটি কার্ড দিয়ে আট বস্তা সার, ২২ প্যাকেট ধানবীজ ও কিছু গাছের চারা তুলে দেন। পরে সেগুলো আব্দুল্লাহ মন্ডলের বাড়িতে পৌঁছে দিই।’
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপিনেতা আব্দুল্লাহ মন্ডল বলেন, ‘সোমবার সার ও ধানবীজ এনে বাড়িতে রেখেছিলাম। বৃষ্টির কারণে সেদিন বিতরণ করা সম্ভব হয়নি। মঙ্গলবার সকালে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা উপস্থিত হওয়ার পর তার তত্ত্বাবধানে কৃষকদের মধ্যে বিতরণ শুরু করেছি।’
মির্জাপুর ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাকিব হোসেন বলেন, ‘সকালে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে সরকারি বরাদ্দের সার ও ধানবীজ তালিকা অনুযায়ী কৃষকদের মধ্যে দশ কেজি করে সার ও পাঁচ কেজি করে ধানবীজ বিতরণ করা হয়েছে।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান বলেন, সোমবার সার ও বীজ উত্তোলন করা হয়েছিল। বৃষ্টির কারণে সেদিন বিতরণ করা সম্ভব হয়নি। আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতিপক্ষরা বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তৈরি করেছে।
এক ব্যক্তি কীভাবে একসঙ্গে ৪৪ জন কৃষকের সার ও বীজ উত্তোলন করে বাড়িতে নিয়ে গেলেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অনেক সময় কৃষকরা পরিবহন খরচ কমাতে একসঙ্গে একজনের মাধ্যমে একাধিক কৃষকের সার-বীজ নিয়ে যান। এখানেও সেই পদ্ধতিতেই উত্তোলন করা হয়েছিল।