যশোর, বাংলাদেশ || মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

উদ্বেগ ও উৎসবের আমেজে যশোর বোর্ডে পরীক্ষা শুরু

স্টাফ রিপোর্টার

, যশোর

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল,২০২৬, ১১:৪৩ এ এম
আপডেট : মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল,২০২৬, ১২:৫৫ পিএম
উদ্বেগ ও উৎসবের আমেজে যশোর বোর্ডে পরীক্ষা শুরু

মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড যশোরের অধীনে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল ১০টায় একযোগে শুরু হয়েছে। সকাল থেকেই যশোরসহ খুলনা বিভাগের ১০ জেলার ২৯৯টি পরীক্ষা কেন্দ্র ঘিরে ছিল উৎসবমুখর কিন্তু উদ্বিগ্ন পরিবেশ।

পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে প্রবেশ করিয়ে বাইরে দাঁড়িয়ে উৎকণ্ঠায় সময় কাটাতে দেখা গেছে অভিভাবকদের। যশোর শহরের বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, সকাল সাড়ে ৮টা থেকেই শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভিড় বাড়তে থাকে।

সকাল ৯টার পর শিক্ষার্থীরা কক্ষে প্রবেশ করে এবং সাড়ে ৯টায় উত্তরপত্র ও ওএমআর শিট বিতরণ শেষে নির্ধারিত সময় সকাল ১০টায় প্রশ্নপত্র দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পরীক্ষা শুরু হয়।

যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এবারের পরীক্ষায় বোর্ডের অধীনে ২ হাজার ৫৭২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মোট ১ লাখ ৩৫ হাজার ৮৯ জন শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে ছাত্র ৬৬ হাজার ৯২৮ জন এবং ছাত্রী ৬৮ হাজার ১৬১ জন।

ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রী সংখ্যা ১ হাজার ১৮৩ জন বেশি। বিভাগভিত্তিক হিসেবে বিজ্ঞান বিভাগে ৩৯ হাজার ৪২৬ জন, মানবিকে ৮২ হাজার ৪১১ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ১৩ হাজার ২৫২ জন পরীক্ষার্থী রয়েছে। নিয়মিত পরীক্ষার্থী ১ লাখ ৯ হাজার ২৬৬ জন, অনিয়মিত ২৫ হাজার ৬৭৮ জন এবং জিপিএ উন্নয়ন পরীক্ষার্থী ১৪৫ জন।

গত বছর ২০২৫ সালে এ বোর্ডে পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৫১ জন এবং ২০২৪ সালে ছিল প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজারের বেশি। সে হিসেবে দুই বছরের তুলনায় এবার পরীক্ষার্থী কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে, যা নিয়ে শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে নানা আলোচনা রয়েছে।

জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, যশোর জেলায় সর্বোচ্চ প্রায় ২২ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। এছাড়া খুলনা জেলায় ২১ হাজার ৪২৮ জন, কুষ্টিয়ায় ১৯ হাজার ৭৪৯ জন, ঝিনাইদহে ১৬ হাজার ৩৪৯ জন, সাতক্ষীরায় ১৪ হাজার ২৪৭ জন, বাগেরহাটে ১১ হাজার ৯২৬ জন, চুয়াডাঙ্গায় ৮ হাজার ৯৬২ জন, মাগুরায় ৮ হাজার ৭৬ জন, মেহেরপুরে ৬ হাজার ২০০ জন এবং নড়াইলে প্রায় ৬ হাজারের কিছু বেশি পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছে।

শহরের পুলিশ লাইন স্কুল পরীক্ষা কেন্দ্রের বাইরে কথা হয় অভিভাবক ফাল্গুনী রহমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, মেয়ে মিম রহমানকে পরীক্ষা দিতে পাঠিয়ে বাইরে দাঁড়িয়ে আছি।

সব সময়ই একটা দুশ্চিন্তা কাজ করে পরীক্ষা ভালো হবে কিনা, কোনো সমস্যা হবে কিনা। অপর অভিভাবক রিপন হোসেন জানান, নকলমুক্ত পরিবেশ ভালো, কিন্তু বিদ্যুত চলে গেলে সমস্যা হবে কিনা সেটা নিয়েও ভয় আছে।

পরীক্ষার্থী তাশফি আক্তার বলেন, প্রস্তুতি ভালো আছে। তবে একটু নার্ভাস লাগছে। যেহেতু আগে কখনো বোর্ড পরীক্ষা ছিলো না, সরাসরি বোর্ড পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছি ভয় কাজ করছে। আশা করি ভালো পরীক্ষা দিতে পারব। 

যশোর জিলা স্কুল কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক মো. কামরুজ্জামান বলেন, এবার পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে নেওয়ার জন্য আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছি। প্রতিটি কক্ষে সিসি ক্যামেরা রয়েছে এবং কেন্দ্রের ভেতরে-বাইরে কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে।

যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মো. মাধব চন্দ্র রুদ্র জানান, নতুন 'পাবলিক পরীক্ষা (সংশোধিত) আইন, ২০২৬' অনুযায়ী কঠোরভাবে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না। আমরা আশা করছি সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা সম্পন্ন হবে।

এদিকে কেন্দ্রের আশপাশে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে। তবে বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে কিছুটা শঙ্কা প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা। চলতি তাপদাহে বিদ্যুৎ চলে গেলে পরীক্ষা কক্ষে সমস্যা হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)