রুহুল আমিন
, যবিপ্রবি
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) গবেষণাগার উন্নয়নকে কেন্দ্র করে পরিচালিত একটি প্রকল্পে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষক, গবেষক বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিশেষজ্ঞকে অন্তর্ভুক্ত না করায় শিক্ষার্থীরা এর বিরূপ সমালোচনা করেছেন। শুধু প্রকৌশলীদের সমন্বয়ে পরিচালিত এ প্রকল্পের কার্যকারিতা ও উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগারে আধুনিক বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি স্থাপন, গবেষণার পরিবেশ সৃষ্টি এবং সামগ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ২০২৩ সালে নয় সদস্যের একটি প্রকল্প কাঠামো গঠন করা হয়। তবে প্রকল্পটির নীতিনির্ধারণ, পরিকল্পনা ও তদারকির দায়িত্বে কোনো শিক্ষক, গবেষক বা গবেষণাগার সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ না থাকায় বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টরা।
প্রকল্পে দায়িত্ব পালনকারীদের মধ্যে রয়েছেন প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী নাজমুস সাকিব, উপ-প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী তৌহিদ ইমাম এবং সহকারী প্রকৌশলী প্রকৌশলী শফিউল আলম। তারা তিনজনই সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রিধারী। এছাড়া নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন প্রকৌশলী মিজানুর রহমান, যিনি ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে শিক্ষিত।
এছাড়া প্রকল্পে আরও রয়েছেন উপ-পরিচালক (হিসাব) মো. আবু ছাইম, সহকারী পরিচালক কুতুব উদ্দিন চিশতী, পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবু হেনা জুনাইদ ইসলাম, সেকশন অফিসার সেলিম উদ্দিন এবং সহকারী হিসাব কর্মকর্তা আতিয়ার রহমান। তবে এই নয়জনের বাইরে গবেষণাগার উন্নয়ন বা গবেষণা কার্যক্রমে অভিজ্ঞ কোনো গবেষক কিংবা বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞ নেই।
এ বিষয়ে যবিপ্রবির শিক্ষার্থী আল শাহরিয়ার রাফিদ বলেন, ‘প্রকৌশলীরা অবকাঠামোগত উন্নয়ন বা ভবন নির্মাণ সম্পর্কে দক্ষ হলেও একটি গবেষণাগারে কী ধরনের যন্ত্রপাতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা কিংবা গবেষণা পরিবেশ প্রয়োজন—তা একজন গবেষকই ভালোভাবে নির্ধারণ করতে পারেন।’
শিক্ষার্থীদের অনেকে মনে করছেন, গবেষণাগার উন্নয়নের নামে যদি কেবল ভবন নির্মাণ, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বা আসবাবপত্র ক্রয়ই মুখ্য হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে সেখানে গবেষকদের প্রয়োজনীয়তা কমে যায়। কিন্তু গবেষণার প্রকৃত মানোন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে সংশ্লিষ্ট অনুষদের শিক্ষক ও গবেষকদের সম্পৃক্ততা অত্যন্ত জরুরি ছিল।
এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী নাজমুস সাকিব বলেন, ‘প্রকল্পে আমাদের নিয়োগ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হয়েছে। আমরা নিজেরা নিজেদের নিয়োগ দিইনি। মন্ত্রণালয় আমাদের যোগ্য মনে করেছে বলেই এই দায়িত্ব দিয়েছে।’