শাম্মী আক্তার মিথি, খুবি প্রতিনিধি
দেশব্যাপী পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু সহনশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে বর্তমান সরকারের আগামী পাঁচ বছরের ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (খুবি) প্রশাসন একটি পরিকল্পিত ও বিজ্ঞানভিত্তিক বনায়ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
এ লক্ষ্যে গঠিত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ সভা ২৪ মে (রবিবার) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম।
সভায় জানানো হয়, গঠিত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত বৃক্ষরোপণ পরিকল্পনা প্রণয়ন করে গত ১ এপ্রিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে দাখিল করা হয়েছে। এছাড়া পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম গত ১৭ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এরই মধ্যে নির্ধারিত এলাকাসমূহে ধাপে ধাপে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
পরিকল্পনার আওতায় পরিবেশগত ভারসাম্য ও ঋতুবৈচিত্র্য নিশ্চিত করতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসের পাশাপাশি পাইকগাছা অফশোর ক্যাম্পাসকেও এই কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক, খালপাড় ও উন্মুক্ত এলাকায় চলতি বছরেই গাছ রোপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ক্যাম্পাসের নান্দনিক সৌন্দর্যবর্ধনের লক্ষ্যে সোনালু, বন সোনালু, কদম ও পারিজাত ফুলের গাছ রোপণ করা হবে।
এছাড়া, টিএসসি ও কেন্দ্রীয় মসজিদের মাঝখানে ‘ন্যাচারাল ভ্যারিয়েন্ট বায়োফেন্সিং’ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেখানে এক সারিতে কনোকার্পাস এবং অন্য সারিতে বিভিন্ন প্রজাতির চাঁপা গাছ লাগানো হবে। পাশাপাশি খেলার মাঠের পূর্ব পাশে বাউন্ডারি ওয়ালসংলগ্ন এলাকায় বড় ক্যানোপি (ছায়াদানকারী বৃক্ষ) এবং কেন্দ্রীয় মাঠসংলগ্ন সড়কের পাশে বিভিন্ন দেশীয় ফলজ গাছের চারা রোপণের পরিকল্পনাও সভায় তুলে ধরা হয়।
সভায় উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়েও পরিকল্পিত ও থিমেটিক বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে আরও সবুজ, পরিবেশবান্ধব ও নান্দনিক ক্যাম্পাস গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ঋতুবৈচিত্র্য এবং বাংলাদেশের জলবায়ুর সাথে সহনশীল গাছ রোপণের দিকে আমাদের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।’
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. নূরুন্নবী, ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. মো. নাজমুস সাদাত, নগর ও গ্রামীণ পরিকল্পনা ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. মো. আশিক উর রহমান, ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. আব্দুস সোবহান মল্লিক, এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. মো. ইয়ামিন কবীর, স্থাপত্য ডিসিপ্লিনের সহযোগী অধ্যাপক শিবু প্রসাদ বসু এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট শাখার প্রধান এস এম মোহাম্মদ আলী।