বাগেরহাট প্রতিনিধি
উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট মৌসুমি নিম্নচাপের প্রভাবে বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল সুন্দরবন, মোংলা সমুদ্রবন্দর এবং সমগ্র দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় এলাকায় দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বিরাজ করছে।
রোববার রাত থেকে আকাশ ঘন মেঘে আচ্ছন্ন। দফায় দফায় দমকা হাওয়ার সঙ্গে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। উত্তাল সাগরের কারণে মোংলা সমুদ্রবন্দরকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে মৌসুমি নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এটি বর্তমানে মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে কয়েকশ’ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে এবং ধীরে ধীরে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। নিম্নচাপ কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ৪০ কিলোমিটার, যা দমকা কিংবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে, সমুদ্র উত্তাল থাকায় উপকূলীয় এলাকায় সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে।
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার প্রভাব পড়েছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলায়ও। বন্দরে নোঙর করা বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত জেটি ও পশুর চ্যানেলে পণ্য খালাস ও পরিবহন কার্যক্রম সীমিত পরিসরে চললেও আবহাওয়ার আরও অবনতি হলে তা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হতে পারে।
ইতিমধ্যে বন্দরে অবস্থানরত খাদ্যবাহী (চাল) জাহাজ থেকে পণ্য খালাসের কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। অন্যান্য জাহাজের কার্যক্রমও পরিস্থিতি বিবেচনায় পর্যায়ক্রমে সীমিত করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে, বঙ্গোপসাগর প্রচণ্ড উত্তাল হয়ে ওঠায় সুন্দরবন ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত জেলেদের গভীর সাগর কিংবা সুন্দরবনের অভ্যন্তরে মাছ ধরতে না গিয়ে উপকূলসংলগ্ন এলাকায় চরম সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
শতাধিক মাছ ধরার ট্রলার ও নৌযান বাগেরহাটের কানাইনগর, জয়মনি, চিলা এবং আশপাশের নদী ও খালগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে। অনেকে মাছ ধরা বন্ধ রেখে নোঙর করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
আবহাওয়াবিদরা আশঙ্কা করছেন, নিম্নচাপের প্রভাবে আগামী কয়েকদিন উপকূলীয় এলাকায় অতি ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে। একইসঙ্গে বাগেরহাটের মোংলাসহ আশপাশের নিচু এলাকায় স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কাও রয়েছে। এ অবস্থায় স্থানীয় প্রশাসন, বন্দর কর্তৃপক্ষ, নৌযান সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটিকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সুন্দরবনসংলগ্ন উপকূলজুড়ে নিম্নচাপের প্রভাবে জনজীবনে উদ্বেগ বাড়ছে। জেলে, নৌযান শ্রমিক ও উপকূলবাসী আবহাওয়ার পরবর্তী পরিস্থিতির দিকে গভীর নজর রাখছেন। দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসন প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।