সাইফুল ইসলাম কবির
, বাগেরহাট
বয়স সত্তর পেরিয়েছে। একসময় ভিক্ষা করে নিজের খাবার জোগাড় করতেন। এখন শরীর আর সায় দেয় না। রোগে-শোকে বিছানায় পড়ে থাকা সেই বৃদ্ধার মাথার ওপর নেই একটি নিরাপদ ছাদও।
বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার ঘোলা গ্রামের সত্তরোর্ধ্ব সবুরা খাতুন। তিনকুলে আপন বলতে কেউ নেই।
স্বামী রুস্তম শেখ মারা গেছেন প্রায় ২০ বছর আগে। স্বামীর মৃত্যুর পর থেকেই একটি পলিথিনে মোড়ানো ঝুপড়িতে বসবাস করছেন সবুরা। এই ঝুপড়িই তার একমাত্র আশ্রয়। বর্তমানে সেটিও বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই ছাউনি ভেদ করে ঘরের ভেতর পানি পড়ে। আর রোদের তীব্রতায় পলিথিনের ঘরটি হয়ে ওঠে অসহনীয় গরম।
সরেজমিনে দেখা গেছে, চিতলমারীর বড়বাড়িয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে ঘোলা জিবিডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাশে ছোট্ট একটি পলিথিনে মোড়ানো ঝুপড়িতে বসবাস করছেন সবুরা খাতুন। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা ও অসুস্থতার কারণে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা কিংবা কোনো কাজকর্ম করতে পারেন না তিনি। সংসারে উপার্জনক্ষম কেউ না থাকায় প্রতিবেশীদের সহায়তা ও সামান্য বিধবা ভাতার ওপরই নির্ভর করে তার জীবন।
ঝুপড়িটির চারপাশে বেড়া হিসেবে টানানো হয়েছে ছেঁড়া কাপড় ও প্লাস্টিকের বস্তা। ছাউনি হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে ছেঁড়া পলিথিন। বর্ষাকালে বৃষ্টির পানি ঘরের ভেতরে ঢুকে পড়ে। চারপাশে জমে থাকে স্যাঁতস্যাঁতে। ঘরের ভেতরে রয়েছে একটি কলসি, কয়েকটি থালা-বাটি ও অল্প কিছু কাপড়-চোপড়।
ঘোলা গ্রামের বাসিন্দা সোনিয়া বেগম বলেন, সবুরা খাতুনের নিজের কোনো ভিটেমাটি নেই। আমার মা তাকে থাকার জন্য একটু আশ্রয় দিয়েছেন। কিন্তু আমাদের সামর্থ্য নেই তাকে একটি ঘর তৈরি করে দেওয়ার। ওষুধ-পথ্য কিনে দেওয়ার মতো কেউ নেই তার।
বিষয়টি একাধিকবার জনপ্রতিনিধিদের জানানো হলেও এখনো স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি।
সবুরা খাতুন বলেন, এ জগতে আপন বলতে আমার আর কেউ নেই। সবাই মারা গেছে। শারীরিক অসুস্থতার কারণে এখন আর ভিক্ষা করতে পারি না। কিছু টাকা বিধবা ভাতা পেতাম। গত কোরবানির ঈদের পর থেকে সেই টাকাও পাচ্ছি না। এখন আমার বেঁচে থাকাটাই দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে।
বড়বাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদ সরদার বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হবে।
চিতলমারী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শেখ বজলুর রশীদ জানান, দীর্ঘদিন ধরে বিধবা ভাতাসহ সরকারি সব ধরনের ভাতা প্রদান বন্ধ রয়েছে।
চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) খাদিজা আক্তার বলেন, বিষয়টি আগে জানা ছিল না। খবর পেয়ে সবুরা খাতুনকে শুকনা খাবার- চাল, ডাল, আলু, লবণ ও তেল প্রদান করেছি। তার নিজস্ব কোনো জায়গা না থাকায় ঘরের বিষয়টি নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।