কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
বিশুকে দুই বছর ধরে লালন পালন করছেন কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার কৃষক শহিদুল ইসলাম। এবার কোরবানি ঈদে প্রিয় এই গরুটি বিক্রি করে তিনি বানাতে চান একটি নতুন বাড়ি।
সারাদিন মাঠে কাজ করে খড়, ঘাস আর শর্ষের খৈল খাইয়ে যত্ন করে বড় করেছেন বিশুকে। প্রতিদিন গড়ে এক হাজার টাকার খাবার খায় এই বিশু। আসন্ন কোরবানি ঈদে শহিদুল তার শখের এই গরুটিকে বিক্রি করবেন।
শহিদুল ইসলামের বাড়ি কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলার আমলা ইউনিয়নের কচুবাড়ীয়া গ্রামে।
প্রায় ১৭ মণ ওজনের বিশালদেহী শঙ্কর জাতের এ গরুটির জন্ম হয় শহিদুলের নিজবাড়িতেই। ইতিপূর্বেও এমন চারটি গরু বিক্রি করেছেন তিনি।
সারাদিন রাত গরুটি পাকা গোয়াল ঘরেই থাকে। বাইরে বের করতে পারে না তারা। দুই বেলা গোসল এবং খাবার সবই দিতে হয় গোয়াল ঘরেই। সাদা-কালো রঙের বিশুকে সন্তানের মতো করেই লালন পালন করে শহিদুলের স্ত্রী।
শহিদুলের স্ত্রী জানান, ছোটবেলা থেকেই বেশ চঞ্চল ছিল বাছুরটি। তাই এর নাম রেখেছিলাম ‘বিশু’। এখন এই গরুটিকে দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন আসে বাড়িতে। সমস্যা হয় বিধায় তাকে বাইরে বের করি না।
শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিন দুই বেলা গোসল করানো লাগে। অতিরিক্ত গরমে যাতে কষ্ট না হয় এজন্য ২৪ ঘণ্টা ফ্যান চালু রাখতে হয়। প্রতিদিন এর খাবার বাবদ এক হাজার টাকার মতো।
তিনি বলেন, এই গরুটিকে এবারে কোরবানির ঈদে বিক্রি করে দেবো। বাড়ির উপরেই ক্রেতারা আসছে। দাম চাচ্ছি পাঁচ লাখ টাকা। দরদামে পড়তা হলে বাড়ি থেকেই বিক্রি করে দেবো, না হলে ঢাকায় নেবো।
শহিদুল ইসলাম বলেন, গরুটি বিক্রি করে নতুন একটা বাড়ি তৈরির ইচ্ছে আছে।জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আল মামুন হোসেন মন্ডল জানান, কুষ্টিয়ার প্রায় ১৯ হাজার খামারে দুই লাখের বেশি গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। জেলার চাহিদা প্রায় এক লাখ হলেও অতিরিক্ত পশু দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।