যশোর, বাংলাদেশ || শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

শতাব্দীপ্রাচীন রতডাঙ্গার হাট

রূপক মুখার্জি

, লোহাগড়া (নড়াইল)

প্রকাশ : শুক্রবার, ৫ জুন,২০২৬, ০২:০০ পিএম
শতাব্দীপ্রাচীন রতডাঙ্গার হাট

চিত্রা নদীর তীরে বিশাল আকৃতির বটগাছ। বটগাছের ডালগুলো মাথা উঁচু ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। তার নিচে শীতল ছায়ায় বসে হাট। হাটটি বিস্তৃত হয়েছে আশপাশের জায়গাজুড়ে। নাম রতডাঙ্গার হাট।

রতডাঙ্গা গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে চিত্রা নদী। নদী পারাপারের পর সিঁড়ি বেয়ে উঠতে চোখে পড়ে বিশাল একটি বটগাছ। তার নিচে সুশীতল ছায়ায় বসে হাট। এটি নড়াইল জেলার একটি প্রাচীন হাট।

জেলা শহর থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে সদর চন্ডিবরপুর ইউনিয়নের চিত্রা নদীর তীরের এ হাটের বয়স দুইশ’ বছরের বেশি। আগের মতো জৌলুস না থাকলেও এই হাটে এখনো বেচাকেনায় সরগরম হয়ে ওঠে।

প্রতিদিন সকাল-বিকেল কেনাবেচা শুরু হয়, চলে রাত পর্যন্ত। তবে, সপ্তাহে দুই দিন শুক্র ও সোমবারে বসে হাট। রতডাঙ্গাসহ আশপাশের চার পাঁচটি গ্রাম থেকে এ হাটে কেনাবেচা করতে লোকজন আসেন। হাটের পাশেই রতডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়। স্কুল শিক্ষার্থীরা টিফিন সময়ে বটগাছের শীতল ছায়ায় এসে ভিড় করে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বটগাছটি হাটের মাঝখানে। গাছের নিচে কেউ দোকান দিয়েছে, কেউ অস্থায়ী সেলুন, কেউ বিক্রি করছেন পান আবার কেউ সবজি। বটগাছের দুই পাশ দিয়ে সারি সারি আধাপাকা দোকানঘর। দোকান ঘরের বারান্দা ও সামনে বিভিন্ন পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। আবার ফাঁকা জায়গায় তাবু টানিয়ে বসেছে অস্থায়ী দোকান। সেখানে চলছে বেচাকেনা।

স্থানীয়রা জানায়, চিত্রা নদীতে এক সময় বড় বড় নৌকা, ট্রলার, লঞ্চ, স্টিমার চলত। নৌকায় এ হাটে ব্যবসায়ীরা আসতেন। হাট থেকে সবজি, মাছ, মাংস, গুড়, পাটালি, মাটির তৈজসপত্র কেনা-বেচা করে বাড়ি ফিরতেন।

বটগাছের নিচে পসরা সাজানো নিরাপদ বিশ্বাস বলেন, বটগাছের শীতল ছায়ায় দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে আমি পান বিক্রি করছি। হাটবারে বিক্রি বেশি হয়। প্রতিদিন টুকটাক যা আয় হয়, তাতেই আমার সংসার চলে।

বটগাছের বয়স আনুমানিক দুইশ’ বছর বলেন এ পান ব্যবসায়ী। তার মতে, ‘বাপ-দাদারা বটগাছটি যে রকম দেখে গেছে, আমরাও সেই রকম দেখছি। আমার ছেলেমেয়েরাও দেখছে। বটগাছটি যেমন পুরনো, রতডাঙ্গার এ হাটও তেমন।

অস্থায়ী সেলুন বসিয়ে চুলে কাট দিচ্ছিলেন হারান পরামানিক। তিনি বলেন, ‘অনেক আগে থেকেই এখানে চেয়ার বসিয়ে এভাবেই চুল দাঁড়ি কাটি। সকালে আসি, বিকেলে যাই। রতডাঙ্গা গ্রামটি অনেক বড়। মানুষ ঠান্ডা জায়গা পেয়ে চুল কাটাতে আসে।

বটগাছের নিচে তাবু টানিয়ে আলু, পটল, মরিচ, বেগুন কাঁচা সবজি সাজিয়ে বসেছেন সদর উপজেলার রতডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা রুহুল আমিন (৭৫)। তিনি বলেন, ২৫ বছরের বেশি সময় ধরে এই হাটে কাঁচা সবজি বিক্রি করি। আগে হাটে প্রচুর লোকের সমাগম হতো। ব্যবসায়ীরা জিনিসপত্র কিনতে নৌকায় করে আসতেন। এখন আর নৌকা আসে না। বেচাকেনা কম।

নড়াইল পৌর এলাকা থেকে এ হাটে আসেন শাহরিয়াল ইসলাম। তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকে বাবার সঙ্গে নৌকা পার হয়ে এই হাটে আসতাম। সেই অভ্যাস থেকে গেছে, প্রতিহাট থেকে সবজি কিনি। মাঝে মাঝে বন্ধুদের নিয়ে বটতলায় আড্ডা দিতে আসি। সবচেয়ে মজার বিষয় রতডাঙ্গার এই হাটে আড়াই টাকায় সিঙ্গাড়া পাওয়া যায়।

চিত্রার পাড়ের শতাব্দী প্রাচীন এ বটগাছটি সংরক্ষণের জন্য রতডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দারা একত্রিত হয়ে ২০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছেন। যার নাম দিয়েছেন রতডাঙ্গা বাজার বটগাছ সংরক্ষণ কমিটি।

কমিটির সভাপতি জাহিদ হোসেন বলেন, গাছটি অনেক পুরনো। গাছটি পাঁচ-ছয়শ’ বছরের পুরনো। গাছটি যাতে সংরক্ষণ করতে পারি, কেউ কোনো ক্ষয়ক্ষতি করতে না পারে, ডালপালা না কাটে সেইভাবে দেখাশোনা করি।

চণ্ডিবরপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান বলেন, রতডাঙ্গার হাটটি ঐতিহ্যবাহী একটি হাট। ব্রিটিশ আমলে চিত্রা নদীর পাড়ে বটবৃক্ষের নিচে এ হাট গড়ে ওঠে। এ হাটে দেশীয় ফল, মাছ, সবজি, গুড়, মধুর জন্য বিখ্যাত। বটগাছটির কারণে এই জায়গাটি সবসময় লোকজনে ঠাসা থাকে।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)