যশোর, বাংলাদেশ || সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

মৌয়াল

‘মধু বারিক’

এম জালাল উদ্দীন

, পাইকগাছা (খুলনা)

প্রকাশ : সোমবার, ৮ জুন,২০২৬, ১১:০০ এ এম
‘মধু বারিক’

আজকাল খাঁটি মধুর মেলানো ক্রেতাদের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে। বাজারে ভেজাল মধুর রমরমা। বিশ্বাস মধু নিয়ে ঠকছেন হাজার হাজার ক্রেতা।

এমন পরিস্থিতিতেও মৌয়াল আব্দুল বারিক স্থানীয় গাছপালা ও বসতবাড়ির প্রাকৃতিক মৌচাক থেকে নিজে মধু সংগ্রহ করে নির্ভেজাল অবস্থায় ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করে সততার স্বাক্ষর রাখছেন। ফলে তার মধুর প্রতি মানুষের আস্থা তৈরি হয়েছে। এলাকায় তিনি ‘মধু বারিক’ নামেই বেশি পরিচিত।

খুলনার পাইকগাছা উপজেলার মটবাটি গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল বারিক প্রায় দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে প্রাকৃতিক মৌচাক থেকে মধু সংগ্রহের সঙ্গে জড়িত। আশপাশের গ্রামে মৌচাকের সন্ধান মিললে লোকেরা তাকে খবর দেয়। তিনি দক্ষতার সঙ্গে চাক থেকে মধু সংগ্রহ করেন এবং অনেক ক্ষেত্রে চাকসহ মধু বিক্রি করেন।

বারিক জানান, সুন্দরবনসংলগ্ন উপকূলীয় অঞ্চলে বড় বা দেশি মৌমাছির চাক বেশি দেখা যায়। কয়েক বছর তিনি সুন্দরবনের মৌয়ালদের সঙ্গে মধু আহরণের কাজও করেছেন। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বর্তমানে স্থানীয় পর্যায়ে মধু সংগ্রহকে পেশা হিসেবে নিয়েছেন।

মধু সংগ্রহের পদ্ধতি সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রথমে শুকনো খড় ও পাতা দিয়ে মশালের মতো একটি ধোঁয়ার উৎস তৈরি করা হয়, যাকে স্থানীয়ভাবে ‘বোলেন’ বা ‘বুন্দা’ বলা হয়। এই ধোঁয়া চাকের কাছে নিয়ে গেলে মৌমাছিগুলো সাময়িকভাবে দূরে সরে যায়। এরপর চাকের কিছু অংশ অক্ষত রেখে দা বা কাঁচির সাহায্যে চাক কেটে নেওয়া হয়। পরে চাক থেকে হাতে চিপে মধু আলাদা করা হয়। চাকের একটি অংশ রেখে দেওয়ায় মৌমাছিগুলো আবার নতুন করে চাক তৈরি করতে পারে।’

মধু সংগ্রহের পর সাধারণত তা সমান দুই ভাগে ভাগ করা হয়। এক ভাগ মৌমাছির চাক যে স্থানে হয়েছে, সেই মালিকের, আরেক ভাগ তার। সংগৃহীত মধু প্রতি কেজি এক হাজার থেকে বারোশ টাকা দরে বিক্রি করেন তিনি, জানান বারিক।

তবে জলবায়ু পরিবর্তন, অতিরিক্ত তাপ এবং বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ার কারণে সাম্প্রতিক সময়ে মৌচাকের সংখ্যা কমে যাচ্ছে বলে জানান এই মৌয়াল। তার ভাষ্য, অতিরিক্ত গরমে অনেক চাক নষ্ট হয়ে পড়ে যায়। আবার পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় ফুল দ্রুত শুকিয়ে ঝরে যায়, ফলে মৌমাছিরা কম মধু সংগ্রহ করতে পারে।

বারিক বলেন, ফাল্গুন থেকে আষাঢ় মাস পর্যন্ত ফুলের আধিক্যের কারণে চাকে সবচেয়ে বেশি মধু পাওয়া যায়। বছরের বাকি সময় মধুর পরিমাণ তুলনামূলক কম থাকে। বর্তমানে পর্যাপ্ত মৌচাক না পাওয়ায় সংসার চালাতে বেশ কষ্ট হচ্ছে।

প্রাকৃতিক চাক থেকে সরাসরি মধু সংগ্রহ ও তা নির্ভেজাল অবস্থায় বিক্রির কারণে আব্দুল বারিক এখন পাইকগাছা অঞ্চলের এক পরিচিত মুখ। কোনো ধরনের কৃত্রিম উপাদান বা ভেজালের মিশ্রণ ছাড়াই ক্রেতাদের সামনে চাক কেটে মধু বিক্রি করায় স্থানীয়দের কাছে তার মধু খাঁটি ও নির্ভরযোগ্য হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)