তারেক মাহমুদ
, (কালীগঞ্জ) ঝিনাইদহ
‘আয় বৃষ্টি ঝেপে, ধান দেব মেপে; লেবুর পাতায় করমচা, ঝড়-বৃষ্টি ঝরে যা।’ ছোট বেলায় এই ছড়া আমরা অনেকেই পড়েছি কিন্তু এখনো অনেকেই হয়তো সেই করমচা ফলটাই দেখিনি। যদিও বর্তমান সময়ে ঔষধি এই ফলটি অনেক সৌখিন ও সচেতন মানুষের বাড়িতে দেখা যায়।
বর্ষার এ ফলটি দেশের অনেকেই বাণিজ্যিকভাবে চাষ করছেন বলেও শোনা যায়। বাজারগুলোতেও এখন এই ফলটি বিক্রি হচ্ছে। বর্ষার ফল করমচা।
করমচা ফলের গাছ সর্বত্র কমবেশি দেখা যায়। বাড়ির আঙিনায় তেমন কোনও পরিচর্যা ছাড়াই এই করমচা চাষ করা যায়। ফলনও বেশ ভাল হয়। ফুল দেখতে অনেকটা বকুল ফুলের মতো। ফলের রং প্রথমদিকে হয় সবুজ অথবা সবুজ-সাদাটে। তারপর ক্রমেই লালচে হতে শুরু করে। সম্পূর্ণ পেকে গেলে এটি গাঢ় লাল থেকে কালো বর্ণ ধারণ করে। এ সময় ফলটি মুখে দিলে মুখ রসে ভরে যায়। খেতেও খুব ভাল লাগে। টক-মিষ্টি স্বাদ। তবে, ফলটি পাকার আগে যখন এর বর্ণ সবুজ থাকে, তখন এতে কাঁঠালের মতো সাদা আঠা জাতীয় পদার্থ থাকে। এসময় খেতে টক লাগে।
ওষধি এই ফলের গাছ রোপণ করেছেন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার পাতবিলা গ্রামের কামরুজ্জামান বাবুল। প্রথমে অনেকটা শখের বসে লাগালেও এখন বুঝতে পারছেন ফলটা অনেক উপকারী। এই ফল প্রায় সারাবছরই তরকারি হিসাবে ব্যবহার করা যায়। পাকা করমচার রস দিয়ে জেলি তৈরি করা হয়। যা খেতে অনেক সুস্বাদু।
কামরুজ্জামান বাবুল জানান, সব থেকে ভালো লাগে যখন ফল আসে, তখন গ্রামের সব বয়সি মানুষ এই ফল নিতে আসে। বিশেষ করে ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা এই ফল পেয়ে খুব খুশি হয়। ফলটি বৃষ্টির পরশ পেলেই যেনো লালচে হতে শুরু করে। এটি দেখতে অনেকটা কুলের মতো। খেতে টক, জিহ্বায় রস আনে। পাকা অবস্থায় দেখতে জামের মতো কালচে। তখন খেতে কিছুটা মিষ্টি-টক স্বাদ লাগে। একটি থোকায় তিন থেকে আটটি ফল হয়।
মেলায় বা বিভিন্ন হাটে বাজারে মাত্র ৩০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১০০ টাকার মধ্যে একটি চারা কিনতে পাওয়া যায়। একটু যত্নসহকারে রোপন করলেই দু’এক বছরের মধ্যেই গাছে ফল আসে। এমনকি এক বছরের মধ্যেও গাছে ফল আসতে পারে।
উইকিপিডিয়া থেকে জানা যায়, করমচা ভিটামিন ‘সি’ ও আয়রনে পরিপূর্ণ। করমচা দিয়ে আচার ও জেলি তৈরি করা যায়। ভারতীয় উপমহাদেশে বহুকাল আগে থেকে করমচা ওষুধ হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। করমচা ফলের বৈজ্ঞানিক নাম ক্যারিসা ক্যারান্ডাস। উদ্ভিদ জগতের এপোসিনেসিয়া পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। ভারতে এই করমচার অতি পরিচিত নাম কারাউন্ডা।