যশোর, বাংলাদেশ || শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

আনারে রঙিন প্রবাসফেরত যুবকের ছাদবাগান

আব্দুল্লাহ আল মাসুদ

, ঝিনাইদহ

প্রকাশ : শুক্রবার, ৩ জুলাই,২০২৬, ১১:০০ এ এম
আনারে রঙিন প্রবাসফেরত যুবকের ছাদবাগান

বিদেশে দীর্ঘদিন কর্মজীবন শেষে দেশে ফিরে অনেকেই জীবিকার ভিন্ন পথ খোঁজেন। ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলার হিজলি গ্রামের প্রবাসফেরত যুবক মনোজিত বিশ্বাস তেমনই এক পথ বেছে নিয়েছেন।

প্রথমদিকে শখের বশে বাড়ির ছাদে শুরু করা আনার (ডালিম) চাষ আজ তাকে এনে দিয়েছে উদ্যোক্তার স্বীকৃতি।

ছাদজুড়ে গড়ে তোলা দৃষ্টিনন্দন আনার বাগানে এবার দ্বিতীয়বারের মতো এসেছে ফল। বিষমুক্ত ফল উৎপাদনের পাশাপাশি তার এই উদ্যোগ স্থানীয়দের মাঝেও ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বাড়ির ছাদের প্রতিটি কোণজুড়ে সারিবদ্ধভাবে সাজানো টবে বেড়ে উঠেছে বিভিন্ন জাতের আনার গাছ। লালচে-গোলাপি রঙের পাকা আনারে নুয়ে পড়েছে গাছের ডাল। কোথাও ঝুলছে বড় বড় ফল, কোথাও আবার ফুটে আছে টকটকে লাল ফুল। সবুজ পাতার ফাঁকে টকটকে রাঙা ফল আর ফুলের সমাহারে পুরো ছাদ রঙিন হয়ে আছে।

মনোজিত বিশ্বাসের বাগানে বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ান বিগ, থাই, রিমন, মেক্সিকান, মৃদুলাসহ মোট ১১ জাতের ৩৩টি আনার গাছ রয়েছে। প্রতিটি গাছে গড়ে ২০ থেকে ২৫টি করে ফল ধরেছে। দ্বিতীয়বারের মতো ফলন আসায় তিনি বেশ আশাবাদী। তার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ দেখতে প্রতিদিনই জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ আসছেন। অনেকে ছাদবাগান তৈরির কৌশল ও পরিচর্যার বিষয়ে তার কাছ থেকে পরামর্শও নিচ্ছেন।

মনোজিত জানান, বিদেশে অবস্থানকালে আধুনিক ফল চাষ ও ছাদবাগান ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন পদ্ধতি কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছিল। দেশে ফিরে সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নিজের বাড়ির ছাদে অল্প কয়েকটি আনার গাছ দিয়ে যাত্রা শুরু করেন। শুরুতে এটি ছিল শুধুই শখ, কিন্তু গাছে ভালো ফলন আসতে শুরু করলে আগ্রহ আরও বেড়ে যায়। এরপর ধীরে ধীরে বিভিন্ন উন্নতজাতের আনার সংগ্রহ করে বাগানটি সম্প্রসারণ করেন।

তিনি বলেন, প্রতিটি গাছের নিয়মিত পরিচর্যা, সময়মতো সেচ প্রদান, জৈব ও সুষম সার প্রয়োগ এবং রোগবালাই দমনে সতর্ক থাকায় এবারও ভালো ফলন পেয়েছেন। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে বাণিজ্যিকভাবে আনার চাষ করার পরিকল্পনা রয়েছে তার। পাশাপাশি আগ্রহী নতুন উদ্যোক্তাদেরও এ বিষয়ে সহযোগিতা করতে চান তিনি।

স্থানীয়দের মতে, মনোজিতের ছাদবাগান শুধু একটি ফলের বাগান নয়, এটি এখন এলাকার মানুষের কাছে অনুপ্রেরণার প্রতীক। সীমিত জায়গাকেও যে পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগিয়ে লাভজনক কৃষি উদ্যোগ গড়ে তোলা সম্ভব, তার উজ্জ্বল উদাহরণ এই ছাদ বাগান।

হরিণাকুন্ডু উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরীফ মোহাম্মদ তিতুমীর বলেন, কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে মনোজিত বিশ্বাসকে নিয়মিত পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে ছাদ বাগান নগর ও গ্রামাঞ্চলে সমানভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এতে একদিকে যেমন নিরাপদ ও বিষমুক্ত ফল উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে, অন্যদিকে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, পারিবারিক পুষ্টি নিশ্চিতকরণ এবং অব্যবহৃত স্থানকে উৎপাদনশীল করে তোলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাই কৃষি বিভাগ এমন ব্যতিক্রমী ও সম্ভাবনাময় উদ্যোগকে আরও ছড়িয়ে দিতে কাজ করছে।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)