যশোর, বাংলাদেশ || শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

লাইসেন্সহীন ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সয়লাব যশোর

স্টাফ রিপোর্টার

, যশোর

প্রকাশ : শুক্রবার, ৬ নভেম্বর,২০২৬, ১১:০০ এ এম
লাইসেন্সহীন ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সয়লাব যশোর

যশোর শহরে লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র ছাড়াই ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন ও ফায়ার সার্ভিসের বাধ্যতামূলক অনুমোদন না থাকা, মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত না করা এবং রোগীদের হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রশাসনের অভিযানে জরিমানা করা হলেও অনেক প্রতিষ্ঠান আবারও কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এতে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন সাধারণ রোগীরা।
এদিকে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত যশোর শহরের দুটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালিয়েছে জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ। অভিযানে একটি প্রতিষ্ঠানকে এক লাখ টাকা জরিমানা এবং একটি প্রতিষ্ঠান সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিম বিনতে মুস্তাফিজ। তার সঙ্গে ছিলেন স্বাস্থ্য বিভাগের মেডিকেল অফিসার নবনীতা।

অভিযানে পাওয়া অনিয়ম

অভিযানে ঘোপ নওয়াপাড়া রোডের প্রিন্স ডায়াগনস্টিক সেন্টারে প্রয়োজনীয় পরিবেশগত ব্যবস্থা, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন ও ফায়ার সার্ভিসের বাধ্যতামূলক ছাড়পত্র না থাকার বিষয়টি উঠে আসে। পাশাপাশি সেখানে কথিত ভুয়া চিকিৎসক মতিয়ার রহমানের চেম্বার থাকার অভিযোগ পাওয়া যায়। এসব কারণে প্রতিষ্ঠানটির মালিকপক্ষকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানের খবর পেয়ে মতিয়ার রহমান চেম্বার ছেড়ে চলে যান বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে, লাইফ কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কোনো প্যাথলজি ল্যাব পাওয়া যায়নি। সেখানে যশোর জেনারেল হাসপাতালের বহির্বিভাগের দুটি সরকারি টিকিট উদ্ধার করা হয়। মালিকপক্ষের কাউকে না পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি তালাবদ্ধ করে কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে যশোর মেডিকেল কলেজের শিশু বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মনির হাসানের অংশীদারিত্ব রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের বক্তব্য

অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিম বিনতে মুস্তাফিজ বলেন, ‘লাইফ কেয়ারে প্যাথলজি ল্যাব নেই এবং সেখানে সরকারি হাসপাতালের টিকিট পাওয়া গেছে। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটি তালাবদ্ধ করা হয়েছে। প্রিন্স ডায়াগনস্টিকে উপযুক্ত পরিবেশ না থাকায় এবং ভুয়া চিকিৎসকের চেম্বারের বিষয়টি বিবেচনায় এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।’

আরও যেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ

অনুসন্ধানে মেডিনোভা হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, অর্থোপেডিক্স কেয়ার, পদ্মা নার্সিং হোম, ল্যাবএইড, পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার অ্যান্ড হসপিটাল, ম্যাক্স হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, আস্থা ডায়াগনস্টিক সেন্টার, সানরাইজ ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ডাক্তার বাড়ি, আল হায়াত, আল শেফা, ডক্টরস ল্যাব ও মেডিল্যাব হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিয়ম না মেনে চিকিৎসাসেবা পরিচালনার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নিয়ম অনুযায়ী যা বাধ্যতামূলক

প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, এক্স-রে, সিটি স্ক্যান ও আল্ট্রাসনোগ্রাফি সেবা দিতে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র থাকতে হয়। চিকিৎসাবর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন এবং অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্সও বাধ্যতামূলক।

অভিযোগ রয়েছে, যশোর শহরের বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের এসব অনুমোদন নেই। লাইসেন্সবিহীন এক্স-রে ও পরীক্ষাগার থেকে ক্ষতিকর বিকিরণ এবং অপরিকল্পিত চিকিৎসাবর্জ্য ব্যবস্থাপনার কারণে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়তে পারে।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)