স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
দীর্ঘ ১৭ বছরের মধ্যে গতকাল সোমবার যশোর জেনারেল হাসপাতালে কোনো দালাল দেখা যায়নি। ‘অস্বাভাবিক’ এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় সম্প্রতি ডিএনএ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নিয়োগকৃত দালালদের সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগী ভাগিয়ে নেওয়া এবং পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটিতে পুলিশের হানার খবর সুবর্ণভূমিতে প্রকাশের প্রেক্ষিতে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, দীর্ঘ ১৭ বছর পর সোমবার সাধারণ রোগীরা কোনো প্রকার হয়রানি ছাড়াই সরাসরি চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পেরেছেন। তবে এই শৃঙ্খলা কতদিন বজায় থাকবে, তা নিয়ে সাধারণ রোগী ও স্বজনদের মনে সংশয় রয়েছে। সাধারণ রোগীদের দাবি, এই দালালমুক্ত পরিবেশ যেন স্থায়ী হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট সাধারণ রোগীদের ভুল বুঝিয়ে বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যাচ্ছে। এতে রোগীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি ভুল চিকিৎসার শিকার হন বলে অভিযোগ রয়েছে। ডিএনএ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ঘটনার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসন অভিযানে নামতে পারে- এমন আশঙ্কায় দালালরা সোমবার হাসপাতালে ভেড়েনি।
সূত্র জানায়, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে সরকারি এই হাসপাতালকে ঘিরে বৈধ-অবৈধ মিলিয়ে অর্ধশতাধিক ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার গড়ে উঠেছে। দালালদের কেউ কেউ ইতিমধ্যে ক্লিনিকের মালিক বনে গেছেন। আবার কারও কারও অংশীদারি আছে বিভিন্ন ক্লিনিকে। এর মধ্যে কিছু প্রতিষ্ঠান সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগী ভাগিয়ে আনতে দালালদের নিযুক্ত করে এবং এই অসাধু প্রক্রিয়াই তাদের ব্যবসার মূল পুঁজি। হাসপাতালের মূল ফটক থেকে ওয়ার্ড পর্যন্ত দালালের অবাধ বিচরণ নিত্যদিনের চিত্র। তাদের মূল কাজ হলো সরকারি হাসপাতালের রোগী ভাগিয়ে নির্দিষ্ট বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়ে চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে ফতুর করে ছেড়ে দেওয়া।
যশোর সদর উপজেলার দেয়াড়া ইউনিয়নের চান্দুটিয়া গ্রামের রফিকুল ইসলাম জানান, সোমবার (৪ মে) তিনি স্ত্রীকে ডাক্তার দেখাতে জেনারেল হাসপাতালে আসেন। কাউন্টার থেকে টিকিট কাটার পর সরাসরি বিড়ম্বনা ছাড়াই ডাক্তার দেখাতে পেরেছেন।
তিনি জানান, অন্যান্য সময়ে হাসপাতালে ডাক্তার দেখাতে এসে দালালদের টানাটানিতে পড়ার অভিজ্ঞতা হয়েছে তার। কিন্ত সোমবারের দিনটি ছিল তার কাছে আলাদা।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার হুসাইন শাফায়েত বলেন, রোগীদের সেবার মান নিশ্চিত করতে এবং দালালচক্র নির্মূল করতে সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারি ও সিকিউরিটি গার্ডদের তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। প্রশাসন এই কঠোর অবস্থান বজায় থাকলে যশোর জেনারেল হাসপাতাল প্রকৃত অর্থেই সাধারণ মানুষের নির্ভরতার প্রতীক হয়ে উঠবে।