যশোর, বাংলাদেশ || মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

হঠাৎ রোগীর চাপ মণিরামপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে

আনোয়ার হোসেন

, মণিরামপুর (যশোর)

প্রকাশ : সোমবার, ৪ মে,২০২৬, ১১:৩৮ পিএম
হঠাৎ রোগীর চাপ মণিরামপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে

হঠাৎ করে রোগীর চাপ বেড়েছে যশোরের মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। কয়েকদিন ধরে ভর্তি রোগী থাকছে হাসপাতালের ধারণ ক্ষমতার দ্বিগুণ। কখনো কখনো তা তিনগুণও হচ্ছে। পুরনো ভর্তি রোগীর পাশাপাশি ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে গত এক সপ্তাহে নিয়মিত গড়ে রোগী ভর্তি হচ্ছে ৬৮ জন। বেড বাদেও রোগীর স্থান হয়েছে হাসপাতালের বারান্দায় ও সিঁড়িমুখে ফ্লোরে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, পরিবর্তিত আবহাওয়ায় গরম বেড়ে যাওয়ায় জ্বর ও ডায়রিয়া রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। ভর্তি রোগীদের অধিকাংশ আসছে জ্বর ও পেটের পীড়া নিয়ে। এছাড়া, কিছু রোগী আসছেন হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে।

বাড়তি রোগীর এই চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। বেড বাদে ভর্তি হওয়া রোগীদের হাসপাতাল থেকে ওষুধ ও খাবার সরবরাহ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

সোমবার সন্ধ্যায় সরেজমিন মণিরামপুর হাসপাতাল ঘুরে জানা গেছে, শুধু বেডের বাইরের রোগী নয়, ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশু হাসপাতাল থেকে কোনো ওষুধ পাচ্ছে না। সব ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে।

সন্ধ্যা পর্যন্ত হাসপাতালে ১০০ জন রোগী ভর্তি ছিল। যার মধ্যে নারী ও শিশু ওয়ার্ডে ৬০ জন ও পুরুষ ওয়ার্ডে ১৯ বেডের বিপরীতে রোগী ভর্তি আছে ৪০ জন। হাসপাতাল সূত্র জানায়, সোমবার সকালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল ১৩৭ জন।

পুরুষ ওয়ার্ডে দায়িত্বরত সেবিকা নাজমা আক্তার বলেন, কয়েকদিন ধরে এই ওয়ার্ডে ধারণ ক্ষমতার দ্বিগুণেরও বেশি রোগী ভর্তি থাকছে। ডায়রিয়া আর হিট স্ট্রোকে বেশি রোগী আসছে। ডায়রিয়া রোগীর কলেরা স্যালাইন আজ সকাল থেকে নেই।

শিশু ওয়ার্ডে পাঁচ নম্বর বেডের জায়েবা নামে ১২ মাসের শিশুর মা রুমিসা খাতুন বলেন, শনিবার সকালে পাতলা পায়খানার সমস্যা নিয়ে বাচ্চাকে ভর্তি করাইছি। হাসপাতাল থেকে কোনো ওষুধ পাইনি। ওষুধ চাইলে বলে বাচ্চাদের ওষুধ সরবরাহ নেই।

চার নম্বর বেডের রোগী দেড় বছরের আব্দুর রহমানকে রোববার দুপুরে ডায়রিয়া নিয়ে ভর্তি করা হয়েছে। এই শিশুর মায়ের নামও রুমিছা খাতুন। তিনি বলেন, কোনো ওষুধ দেচ্ছে না। যা লিখে দিচ্ছে কিনে আনতেছি।

ওষুধ না পাওয়ার অভিযোগ ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী বাকোশপোল গ্রামের রাশিদুল ও সুন্দলপুর গ্রামের জাকারিয়ার।

শিশু ওয়ার্ডের সেবিকা হুমায়রা বলেন, ডায়রিয়া রোগীর ট্যাবলেট ক্যাপসুল আছে। রোগীরা সিরিয়াস অবস্থায় ভর্তি হলে ইনজেকশন দিতে হয়। কিন্তু ইনজেকশন সরবরাহ থাকে না।

রোগীদের অভিযোগের বিষয়ে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শাহিনুর রহমান, ইনজেকশন সাপ্লাই না থাকলে দিতে পারব না। সাপ্লাই থাকলে বাইরের ওষুধ আমরা লিখি না। রোগীর স্বজনদের ওষুধ না পাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে কিছু বলার নেই।

মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক অনুপ বসু বলেন, গরম ও হঠাৎ করে বাতাসের আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়ায় জ্বর ও ডায়রিয়ার রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেছে। ৫০ শয্যার হাসপাতালে রোগীর চাপ গত এক সপ্তাহ ধরে দ্বিগুণ বা তিনগুণ বেড়েছে। আমরা ৫০ শয্যার খাবার ও ওষুধ সরবরাহ পাই। কিন্তু লোকবল ৩১ শয্যার। বাড়তি রোগীর জন্য খাবার ও ওষুধ সরবরাহ না থাকায় সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

ডা. অনুপ বসু বলেন, কলেরা স্যালাইনের সরবরাহ কম। ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশুদের জন্য মেট্রো সিরাপ সরবরাহ আছে। কিন্তু ওষুদের সরবরাহ প্রয়োজনের তুলনায় কম।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন