যশোর, বাংলাদেশ || বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

এবিসির বিশ্লেষণ

আপাতত ক্ষমতায় থাকছেন নেতানিয়াহু

সুবর্ণভূমি ডেস্ক

প্রকাশ : বুধবার, ২৮ অক্টোবর,২০২৬, ০৬:৩৩ পিএম
আপডেট : বুধবার, ২৮ অক্টোবর,২০২৬, ০৬:৫৭ পিএম
আপাতত ক্ষমতায় থাকছেন নেতানিয়াহু

ইসরায়েলের নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন দুই-তৃতীয়াংশের বেশি ভোটার। তবু স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় আপাতত ক্ষমতায় থাকছেন তিনিই।

অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার অংশীদার হিসেবে উপেক্ষিত আরব ইসরায়েলিরা এবার সরকার গঠনের সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছেন। 

অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, নির্বাচনের এই ফল ইসরায়েলের রাজনীতিতে দুটি বড় বৈপরিত্য তৈরি করেছে।

একদিকে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ভোটারদের অবস্থান, অন্যদিকে সরকার গঠনে তারই ক্ষমতায় টিকে থাকার সম্ভাবনা। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ সিদ্ধান্ত নেবেন, কোন দল বা জোট সরকার গঠনের উপযুক্ত বলে তার কাছে প্রতীয়মান হয়।

সরকার গঠনে কঠিন সমীকরণ

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি সবচেয়ে বড় দল হিসেবে উঠে আসতে পারে। তবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারেনি তার নেতৃত্বাধীন জোট।
ফলে সরকার গঠনের জন্য বিরোধী শিবিরের কোনো দলের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করতে পারেন তিনি। 

এ ক্ষেত্রে আলোচনায় রয়েছে নেতানিয়াহুর সাবেক সহযোগী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটের দল। নির্বাচনের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, বেনেটের ‘টুগেদার’ পার্টি ১১টি আসন পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছিল। দলটি নেতানিয়াহুর জোটে যোগ দিলে আসনসংখ্যা ৬১-তে পৌঁছাতে পারে। তবে এ ধরনের সমঝোতা এখনো নিশ্চিত নয়।

অন্যদিকে, নেতানিয়াহুবিরোধী দলগুলোও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারেনি। নির্বাচনী প্রচারের সময় তাদের অনেকেই আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের বিরোধিতা করেছেন। অথচ আরব দলগুলোর সমর্থন ছাড়া বিরোধী শিবিরের সরকার গঠন কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

বিরোধী শিবিরের নেতা ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী আভিগদর লিবারম্যান সংখ্যালঘু সরকার গঠনের ধারণার বিরোধিতা করেছেন। তার মতে, সরকার গঠনে সমঝোতা সম্ভব না হলে ইসরায়েলিদের আবারও নির্বাচনে যাওয়া উচিত।

এদিকে, নেতানিয়াহুর দলের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা জাতীয় ঐক্যের স্বার্থে তার জোটের কিছু সদস্যকে পক্ষ পরিবর্তন করে সাবেক সামরিক কর্মকর্তা গাদি আইজেনকোটের সঙ্গে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

আরব ইসরায়েলিরা কেন গুরুত্বপূর্ণ?

ইসরায়েলের নির্বাচনী রাজনীতিতে আরব দলগুলোর ভূমিকা দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কিত। দেশটির বড় ইহুদি-প্রধান দলগুলো সাধারণত আরব দলগুলোকে সরকার পরিচালনার অংশীদার করতে অনাগ্রহী। এবারও নির্বাচনী প্রচারে আরব নাগরিকদের উদ্বেগ ও রাজনৈতিক অবস্থান খুব একটা গুরুত্ব পায়নি।

কিন্তু নির্বাচনের ফল সরকার গঠনের হিসাব পাল্টে দিয়েছে। আরব দলগুলো বিরোধী শিবিরকে সমর্থন দিলে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোর পথ তৈরি হতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে বিরোধী দলগুলোর নিজেদের মধ্যকার মতপার্থক্য দূর করা এবং আরব দলগুলোর সঙ্গে সহযোগিতার প্রশ্নে ঐকমত্যে পৌঁছানো জরুরি।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে নেতানিয়াহুর জোট ও তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী শিবির-কেউই স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। আরব দলগুলোর শক্তিশালী অবস্থান সরকার গঠনের দর-কষাকষিতে তাদের গুরুত্ব বাড়িয়েছে।

যুদ্ধের আশঙ্কা কি নেতানিয়াহুর জন্য সুযোগ তৈরি করবে?

নির্বাচনের পর ইসরায়েলে নতুন করে যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কাও রাজনৈতিক আলোচনায় প্রভাব ফেলছে। উদ্বেগ রয়েছে, নেতানিয়াহু ইরানের সঙ্গে আবার সংঘাতে জড়াতে পারেন অথবা প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে চলমান উত্তেজনা বাড়তে পারে।

এ ধরনের পরিস্থিতি সরকার গঠনের আলোচনা জটিল করে তুলতে পারে। একই সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তার যুক্তিতে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের দাবিও জোরালো হতে পারে। তাতে নেতানিয়াহুর ক্ষমতায় থাকার মেয়াদ দীর্ঘ হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনের পরও ক্ষমতায় থাকার সম্ভাবনা নিয়ে নেতানিয়াহু ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। লিকুদ পার্টির এক কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চান, নির্বাচনের পর দ্রুত একটি স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য ইসরায়েলি সরকার গঠিত হোক।

তবে এ বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরেও মতপার্থক্য রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নেতানিয়াহু বিরোধী শিবিরের নেতা আইজেনকোটের সঙ্গে ঐক্যের সরকার গঠনের সম্ভাবনাও সামনে এনেছেন। কিন্তু দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধ ও পারস্পরিক অবিশ্বাসের কারণে এ ধরনের সমঝোতা সহজ হবে না।

শেষ পর্যন্ত কী হতে পারে?

সরকার গঠনের আলোচনা চলাকালে নেতানিয়াহুই তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। নতুন সরকার গঠনে কয়েক সপ্তাহ, এমনকি কয়েক মাসও লেগে যেতে পারে। কোনো দল বা জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে না পারলে নতুন নির্বাচন আয়োজনের পথও খোলা থাকবে।

এখন নেতানিয়াহুবিরোধী দলগুলোর সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো নিজেদের মধ্যে সমঝোতা তৈরি করা এবং আরব দলগুলোর সঙ্গে সহযোগিতার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া। ভোটারদের বড় অংশ নেতানিয়াহুর বিরোধিতা করলেও সেই ভোটকে ক্ষমতার পরিবর্তনে রূপ দিতে পারবে কি না, তা নির্ভর করছে বিরোধী দলগুলোর রাজনৈতিক ঐক্য ও সরকার গঠনের সক্ষমতার ওপর।

তথ্যসূত্র: এবিসি নিউজ

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)