সুবর্ণভূমি ডেস্ক
পশ্চিমবঙ্গের ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের সবকটি বুথে পুনরায় ভোটগ্রহণের (রিপোলিং) নির্দেশ দিয়েছে ভারতের নির্বাচন কমিশন (ইসিআই)। ‘গুরুতর নির্বাচনী অপরাধ এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত’ করার অভিযোগ তুলে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ২১ মে ফলতার ২৮৫টি বুথে (সহায়ক বুথসহ) নতুন করে ভোটগ্রহণ করা হবে। সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ভোট চলবে এবং ফল ঘোষণা করা হবে ২৪ মে। এর ফলে ৪ মে পশ্চিমবঙ্গের ২৯৩টি আসনের ভোট গণনা সম্পন্ন হবে।
নির্বাচন কমিশন তাদের আদেশে জানায়, গত ২৯ এপ্রিল ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের বিপুলসংখ্যক বুথে নির্বাচনী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই কেন্দ্রের সব বুথে নতুন করে ভোট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই ঘোষণার পর তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক ও ডায়মন্ড হারবারের সংসদ সদস্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন।
তিনি একে ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’ উল্লেখ করে বলেন, বিজেপি এই আসনে কখনোই জিততে পারবে না।
তিনি লেখেন, ‘আপনাদের যা কিছু আছে সব নিয়ে আসুন। আমি পুরো ভারত সরকারকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছি, ফলতায় আসুন।’
বিজেপি ও তৃণমূলের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
২৯ এপ্রিল বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় ফলতায় ভোটগ্রহণের সময় ইভিএম (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) কারচুপির অভিযোগ তোলে বিজেপি। তাদের দাবি ছিল, বেশ কিছু বুথে ইভিএমে বিজেপির প্রতীকের বোতাম টেপ দিয়ে আটকে রাখা হয়েছিল।
তৃণমূল কংগ্রেস এই অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা দাবি করেছে, পরাজয় নিশ্চিত জেনেই বিজেপি মিথ্যা অভিযোগ তুলছে। একই সঙ্গে তারা নির্বাচন কমিশন এবং পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয় পাল শর্মার কঠোর সমালোচনা করেছে।
উল্লেখ্য, ফলতা ও মগরাহাট পশ্চিম কেন্দ্রের ১৫টি বুথে অনিয়মের অভিযোগে গত শুক্রবার রিপোলিং ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই ভোটগ্রহণ গতকাল অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং ভোটার উপস্থিতি ছিল ৯০ শতাংশের বেশি। তবে ভোট চলাকালীন ফলতায় বিজেপি ও তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ভোটারদের ভয় দেখানো ও হামলার অভিযোগে শনিবার সন্ধ্যায় ফলতা থেকে তিন তৃণমূল কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি