যশোর, বাংলাদেশ || বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

নকল-ভেজালমুক্ত কৃষি উপকরণ নিশ্চিতের আহ্বান

স্টাফ রিপোর্টার

, যশোর

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই,২০২৬, ০৪:৪২ পিএম
নকল-ভেজালমুক্ত কৃষি উপকরণ নিশ্চিতের আহ্বান

নকল  ও ভেজাল কৃষি উপকরণের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে যশোরে এক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘নকল ও ভেজালকে না' শীর্ষক এ বৈঠকে বক্তারা কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধি, আইন প্রয়োগ এবং সরবরাহ চেইনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বৃহস্পতিবার সকালে যশোর জেলা পরিষদ সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ কৃষি সাংবাদিক ফোরামের (বিএজেএফ) সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান। সঞ্চালনা করেন প্রেসক্লাব যশোরের সাধারণ সম্পাদক এস এম তৌহিদুর রহমান।

প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন যশোর জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, বিশেষ অতিথি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুন্না বিশ্বাস ও মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শেরে-বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক আবু নোমান ফারুক আহম্মেদ।

স্বাগত বক্তব্যে সিনজেনটা বাংলাদেশ লিমিটেডের কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, নকল ও ভেজাল পণ্য কৃষকদের উৎপাদন খরচ বাড়ায় এবং ফসলের ক্ষতি করে। এ সমস্যার সমাধানে সরকার, বেসরকারি খাত ও মিডিয়ার সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোরের উপপরিচালক মোশাররফ হোসেন বলেন, কৃষকদের সঠিক তথ্য ও প্রশিক্ষণ দিয়ে নকল পণ্য শনাক্ত করতে সক্ষম করে তোলা হচ্ছে। 

প্যানেল আলোচনায় কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (প্রশিক্ষণ) কিশোর কুমার সাহা, চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির যুগ্ম সম্পাদক এজাজ উদ্দিন টিপু এবং প্রেসক্লাব যশোরের দপ্তর সম্পাদক আব্দুল কাদের অংশ নেন।

কৃষক প্রতিনিধি হিসেবে যশোর সদরের ইছালীর রইচ উদ্দিন এবং রিটেইলার ইমামুল এন্টারপ্রাইজের ইমরান হোসেন এ বৈঠকে তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তাঁরা জানান, বাজারে নকল বীজ, সার ও কীটনাশক পাওয়া যাচ্ছে, যা কৃষকদের বড় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

বক্তারা একমত হয়ে বলেন, নকল ও ভেজাল পণ্যের বিরুদ্ধে নিয়মিত মনিটরিং, কঠোর শাস্তি এবং গণসচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে এ সমস্যা মোকাবিলা করা সম্ভব। বৈঠকে উপস্থিত সবাই কৃষি খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। 

প্রধান অতিথি দেলোয়ার হোসেন খান খোকন বলেন, এই আয়োজনের মাধ্যমে কৃষি খাতে নকল ও ভেজাল পণ্যের বিরুদ্ধে একত্রিত হওয়ার যে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, তা সত্যিই সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ।

আমরা সবাই জানি, কৃষি আমাদের অর্থনীতির মূল ভিত্তি। কিন্তু নকল বীজ, ভেজাল সার, নকল কীটনাশক ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ কৃষকদের স্বপ্ন ভেঙে দিচ্ছে। এসব নকল ও ভেজাল পণ্য শুধু ফসলের উৎপাদন কমায় না, কৃষকদের আর্থিক ক্ষতি করে, পরিবেশ দূষিত করে এবং জনস্বাস্থ্যের জন্যও হুমকি সৃষ্টি করে।

জেলা পরিষদ হিসেবে আমরা সবসময় কৃষকদের পাশে থাকার চেষ্টা করি। আমাদের লক্ষ্য হলো কৃষক যেন নিরাপদ, মানসম্মত ও আসল কৃষি উপকরণ পান। এজন্য স্থানীয় প্রশাসন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, পুলিশ প্রশাসন, ব্যবসায়ী সংগঠন এবং সাংবাদিকদের সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য। এছাড়া তিনি আরো বলেন, নকল ও ভেজাল পণ্য উৎপাদন, মজুত ও বিক্রির বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ যেন আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে যেতে না পারে। বাজারে নিয়মিত মনিটরিং ও অভিযান পরিচালনা করতে হবে। এ কাজে স্থানীয় প্রশাসন সবসময় সহযোগিতা করবে।

কৃষকদের সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণ, প্রচার ও মাঠপর্যায়ে তথ্য সরবরাহ জোরদার করতে হবে।

 সৎ ব্যবসায়ী ও রিটেইলারদের উৎসাহিত করতে হবে এবং নকল পণ্য বিক্রি বন্ধে তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। আমি বিশ্বাস করি, সরকারি-বেসরকারি সংস্থা, কৃষক, ব্যবসায়ী এবং মিডিয়ার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা এই সমস্যা মোকাবিলা করতে পারব। যশোর জেলাকে নকল ও ভেজালমুক্ত কৃষিপণ্যের একটি মডেল এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করব এটাই আমার প্রত্যাশা।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)