যশোর, বাংলাদেশ || সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

সাতক্ষীরার ৪ প্রতিষ্ঠানে পাস করেনি কেউ

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

প্রকাশ : সোমবার, ১০ আগস্ট,২০২৬, ০৩:৪৬ পিএম
সাতক্ষীরার ৪ প্রতিষ্ঠানে পাস করেনি কেউ

চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে সাতক্ষীরা জেলার চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। শতভাগ অকৃতকার্য প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে উপজেলা পর্যায়ের নিম্নমাধ্যমিক ও নৈশ বিদ্যালয়। সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও জেলা শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

শতভাগ অকৃতকার্য হওয়া চারটি প্রতিষ্ঠান হলো, আশাশুনি উপজেলার আশাশুনি গোদাড়া নিম্নমাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার সাতক্ষীরা নৈশ বিদ্যালয় (নাইট স্কুল), দেবহাটা উপজেলার বাবুরাবাদ ঢেবুখালী বিদ্যালয় এবং শ্যামনগর উপজেলার সাহেবখালী সিদ্দিকগাজী বিদ্যালয়।

আশাশুনি গোদাড়া নিম্নমাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা জেবুন্নেছা জানান, এ বছর বিদ্যালয়টির মানবিক বিভাগ থেকে চারজন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। প্রকাশিত ফলাফলে তাদের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি।

দেবহাটার বাবুরাবাদ ঢেবুখালী বিদ্যালয়ের বেহাল পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে অফিস সহকারী নূর হোসেন বলেন, ২০০১ সাল থেকে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা কোনো বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। ফলে তারা নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসেন না। কাগজে-কলমে আটজন শিক্ষক থাকলেও তাদের অধিকাংশই অনুপস্থিত থাকেন। একজন শিক্ষিকা ও একজন শিক্ষক থাকলেও তারাও নিয়মিত সময় দেন না।

নূর হোসেন বলেন, ‘বলতে গেলে আমি অফিস সহকারী হিসেবে একাই স্কুলটি দেখাশোনা করে টিকিয়ে রেখেছি।’ গত বছর বিদ্যালয়টির পাঁচজন পরীক্ষার্থীর মধ্যে চারজন পাস করেছিল। তবে এবার ফলাফল অত্যন্ত খারাপ হয়েছে।

সাতক্ষীরা নৈশ বিদ্যালয়ের ফলাফল সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মমিনুর রহমান জানান, এ মুহূর্তে ফলাফলের সঠিক তথ্য তার জানা নেই। বোর্ড ও অনলাইনভিত্তিক নথি দেখে বিস্তারিত তথ্য জানাতে পারবেন।

শ্যামনগরের কৈখালী ইউনিয়নের সাহেবখালী সিদ্দিকগাজী বিদ্যালয়টি থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস না করার কারণ জানতে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল খায়ের বলেন, যশোর শিক্ষা বোর্ড থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ফলাফলের বিস্তারিত তথ্য পাঠানো হচ্ছে। যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি, সেসব প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এ বছর নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, সারা দেশের ৩০ হাজার ৪০২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩১২টি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি।

এ বছর নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দাখিল পরীক্ষায় ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছিল।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন