যশোর, বাংলাদেশ || শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

এমএমটিপিতে ছাত্রী নির্যাতন: সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ-নিন্দার ঝড়

গোলাম মোস্তফা

, যশোর

প্রকাশ : শুক্রবার, ২৮ আগস্ট,২০২৬, ১১:০০ এ এম
এমএমটিপিতে ছাত্রী নির্যাতন: সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ-নিন্দার ঝড়

যশোরের মধুসূদন তারাপ্রসন্ন (এমএসটিপি) বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজের পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে শারীরিক নির্যাতনের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও যশোরবাসী। তারা স্কুলের খণ্ডকালীন শিক্ষক শিমুল মণ্ডলকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।

সুবর্ণভূমির মাল্টিমিডিয়ায় প্রকাশিত ভিডিও রিপোর্টে অভিভাবকরা নানা সব প্রতিক্রিয়া উল্লেখ করেছেন। এসময় তারা কোচিং বাণিজ্য বন্ধের দাবি জানান।

সঞ্জয় মল্লিক নামে একটি আইডি থেকে সত্য প্রকাশের আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, ‘তদন্ত করে সত্য প্রকাশ করা হোক। প্রকৃত দোষীর রূপ প্রকাশ পাক। সবাই সত্যের পক্ষে।’

লাবু জোয়ার্দার নামে একজন অভিভাবক লিখেছেন, ‘শুধু স্কুল নয় কলেজের ক্ষুধার্ত টাকাপিপাসুু অনিমেষ যার ছোবলে কয়েকটি ছাত্রী এবার এইচএসসি পরীক্ষা দিতে পারিনি। তার বাড়ি থেকে তার কাছে প্রাইভেট না পড়লে স্কুলে ফেল করানো হয়। যার সহযোগিতা প্রিন্সিপালও করে এদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হোন এবং এই শিক্ষকের কোচিং বাণিজ্য বন্ধ করা হোক।’

আলমগীর কবির নামে একটি আইডি থেকে উল্লেখ করা হয়, ‘সবার আগে স্কুলের কোচিং বন্ধ করা উচিৎ, গার্লস স্কুলে পুরুষ টিচার বাদ দিয়ে মহিলা শিক্ষিকা রাখা উচিৎ।’

আহমেদ ফেরদৌস নামে একটি আইডি থেকে ‘কুলাঙ্গারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই’ দাবি করা হয়েছে।

পদ্মনাভ অধিকারী নামে একটি আইডি থেকে বলা হয়েছে ‘অভিভাবকদের বলছি, আপনার মেয়ের মেডিকেল টেস্ট করিয়ে, রিপোর্ট সংগ্রহ করে রাখুন, তা না হলে অত্যাচারের নমুনা নষ্ট হয়ে গেলে, কোনো আইনি ব্যবস্থা নিতে প্রমাণ লাগবে।’

শহিদ জয় নামে একটি আইডি থেকে শিক্ষক শিমুল মণ্ডলকে শায়েস্তা করার দাবি করে মন্তব্য করা হয়েছে, ‘এসব শিক্ষকদের একটু শায়েস্তা করা উচিত ভালোমতো। এরা শিক্ষা দান করতে আসে না শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ব্যবসা করতে আসে।’

পার্থিব আহসান অতিরিক্ত ক্লাসের নামে কোচিং বন্ধের দাবি করে উল্লেখ করেছেন, ‘হেডস্যার নিজের গুণগান গাইতে ব্যস্ত। উনার দাবি সব স্কুলে অতিরিক্ত ক্লাস নেওয়ার সিস্টেম আছে। কিন্তু অতিরিক্ত ক্লাসের চড়া বেতন নেওয়ার সিস্টেম কি সরকার জানে? অথচ সরকারই এগুলা বন্ধ করতে বলেছে। সরকার স্কুলে কোচিং করানো নিষিদ্ধ করেছে তাই অতিরিক্ত ক্লাসের কথা বলে এখন কোচিং চালানো হয়। অবিলম্বে এই ব্যবসা বন্ধ করা উচিত।’

এমএসটিপি স্কুলের ‘সব শিক্ষকই একই রকম’ উল্লেখ করে সাইদুর রহমান নামে একজন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘এখানে দেখছি কিছু শিক্ষক ভালো মানুষ সাজছে! এখানে সব শিক্ষকই একই রকম।’

দোষীদের বিচারের আওতায় এনে কোচিং বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে উল্লেখ করে মন্তব্য করেছেন নওরোজ আলম খান চপল নামে একজন। তিনি বলেছেন, ‘এমএসটিপি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বালিকা স্কুলটি যশোর শহরের একটি ঐতিহ্যবাহী স্কুল। এই স্কুলটির সুনাম অক্ষুণ্ন্ন রাখার জন্য দ্রুত সঠিক তদন্ত করে দোষীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। কোচিং বাণিজ্য বন্ধ কর, করতে হবে।’

এমডি তৌফিকুজ্জামান নামে এক আইডি থেকে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘বাংলাদেশে স্কুল এর দরকার নাই, শুধু কোচিং সেন্টারের ব্যবসা রাখা ভালো।’

মো. মাহমুদ ইসলাম তার প্রতিক্রিয়ায় উল্লেখ করেছেন, ‘স্কুল কোচিং একটি বাণিজ্য। যা স্কুল এর শিক্ষকরা করে আসছে। স্কুলশিক্ষকরা ক্লাস এ ঠিকমতো ক্লাস না করিয়ে স্কুল কোচিং এ ক্লাস করাবে। আর স্কুল কোচিং না করলে ফেল করাবে। এমন কাজ দীর্ঘ দিন ধরে চলে আসছে। এসব শিক্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া উচিত।’

এমএসটিপি স্কুল ও শিক্ষক শিমুল মণ্ডলের পক্ষে অভিভাবক খবির শিকদারের বক্তব্য, ‘যশোরের ঐতিহ্যবাহী এমএসটিপি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক শিমুল বিশ্বাসের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে, বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা উচিত। অভিযোগ সত্য হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক- এতে কারও আপত্তি থাকার কথা নয়। কিন্তু তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই একজন শিক্ষককে অপরাধী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা এবং পুরো স্কুল ও শিক্ষক সমাজকে বদনাম করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

এলিনা নূর নামে একজন বলেছেন, ‘সাদিয়া ম্যাম তার কোচিংয়ে পড়ার জন্য অনেকটা বাধ্য করেন। তিনি তার কোচিংয়ে পড়ার জন্য বাধ্য করার পাশাপাশি নানারকম হয়রানিও করেন। এমনকি, এসবের কারণে একটি মেয়ে স্কুল থেকে টিসি নিয়ে চলে গিয়েছিল। স্কুলে সবার সামনে, এমনকি কয়েকজন বড় মন্ত্রীও উপস্থিত ছিলেন, তখন মেয়েটি যখন বিষয়টি বলতে যাচ্ছিল, খায়রুল আনাম হেড স্যার তাকে পুরো কথা বলতে দেননি। হয়তো স্কুলের সুনাম নষ্ট হবে এই ভয়েই তাকে থামিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তাই আমার মনে হয়, এই বিষয়গুলোর সঙ্গে স্কুলের অনেক স্যার-ম্যাডামই জড়িত।’

প্রসঙ্গত, খণ্ডকালীন শিক্ষক শিমুল মণ্ডল তার কোচিং না করার কারণে ছাত্রীকে মারপিট করেন। ২৫ আগস্ট সকালে এ অভিযোগের ঘটনায় অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে তারা বিদ্যালয়ে এসে প্রথমে অভিযুক্ত শিক্ষক শিমুলকে খোঁজাখুঁজি করেন।

তবে তাকে না পেয়ে ক্ষুব্ধ অভিভাবকেরা প্রধান শিক্ষকের কক্ষে যান এবং ঘটনার বিষয়ে জবাবদিহি দাবি করেন।

ক্ষুব্ধ অভিভাবক এ ঘটনায় থাকায় শিমুল মণ্ডলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে স্কুল কর্তৃপক্ষ খণ্ডকালীন শিক্ষক শিমুল মণ্ডলকে সাময়িক বহিস্কার করেছেন।

এমএসটিপি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ খায়রুল আনাম বলেন, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশনা অনুযায়ী অভিযুক্ত খণ্ডকালীন শিক্ষক শিমুল মণ্ডলকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। এমএসটিপি স্কুল ও কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি, যশোর পৌরসভার প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক রফিকুল হাসান বিষয়টি নিয়ে আইনি প্রক্রিয়ায় তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)